মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পবিত্রতা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১০:৫৩ এএম

ইসলামে পবিত্রতার বিষয়ে ব্যাপক গুরুত্বারোপ করা হয়েছ। পবিত্রতাকে বলা হয়েছে ইমানের অর্ধেক। আল্লাহতায়ালা নিজে পবিত্র। তিনি সবকিছুতে পবিত্রতা পছন্দ করেন। তাই ইসলামি জীবন দর্শনে পবিত্রতার রয়েছে বিস্তৃত অর্থ। অর্থাৎ বাহ্যিক ও দৈহিক পবিত্রতা, অভ্যন্তরীণ ও অন্তঃকরণের পবিত্রতা এবং স্বভাব ও চারিত্রিক পবিত্রতা ইত্যাদি। শরীর, কাপড় ও স্থানের পবিত্রতা নামাজের অপরিহার্য শর্ত। পবিত্রতা ছাড়া নামাজ হয় না। আর নামাজ ছাড়া ইমান পূর্ণ হয় না। এদিক থেকে ইমানের অর্ধেক হচ্ছে পবিত্রতা।

ইসলামে পবিত্রতা অপরিহার্য ব্যাপার। পবিত্রতার এই মহিমা ইসলামেরই বৈশিষ্ট্য। সুতরাং এ বিষয়ে অবহেলা কাম্য নয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) মদিনার একটি বাগান থেকে বের হয়ে দুটি কবরের কাছ দিয়ে অতিক্রমকালে দুজন মানুষের আওয়াজ শুনতে পেলেন, যাদের কবরে আজাব হচ্ছিল। তিনি বললেন, দুজনের আজাব হচ্ছে। তবে সে আজাব কঠিন কোনো কারণে হচ্ছে না। এদের একজন প্রস্রাব থেকে বাঁচত না। অন্যজন চোগলখোরি করে বেড়াত।’ (সহিহ বুখারি)

একজনের আজাব হচ্ছে প্রস্রাব থেকে শরীর ও কাপড় পবিত্র না রাখার কারণে। আর অপরজনের আজাব হচ্ছে চোগলখোরির কারণে। চোগলখোরি মানে একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগানো, যার ফলে মনোমালিন্য ও বিবাদ সৃষ্টি হয়। এ দুটি বিষয় কবরে আজাবের কারণ। সুতরাং অন্যায় হিসেবে তা গুরুতর।

প্রস্রাব থেকে শরীর ও কাপড় পবিত্র না রাখা খুবই খরাপ একটি ব্যাপার। কারণ এ অবস্থায় নামাজ হয় না। আর নামাজ না হলে তার যে কোনো কল্যাণ নেই, তা তো বলাই বাহুল্য। এ কারণে প্রস্রাব থেকে পবিত্র না থাকাকে আলেমরা কবিরা গুনাহ সাব্যস্ত করেছেন।

প্রস্রাবের ছিটা থেকে শরীর ও কাপড় পবিত্র না থাকায় অনেক মানুষ নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকে। তারা বলে, আমাদের কাপড় পাক থাকে না, তাই নামাজ পড়তে পারি না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাপড় ও শরীর পাক রাখা কি খুব কঠিন? আসলে কঠিন নয়। কঠিন যদি হতো তাহলে নানা বয়স ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দ্বীনদার মানুষ নিজেদের কাপড় ও শরীর পাক রাখতে পারতেন না।

পাক-সাফ থাকার জন্য শুধু প্রয়োজন অভ্যাস ও সদিচ্ছা। বাথরুমে তো প্রত্যেকেরই সময় যায়। সেই সময়ের সঙ্গে দুই চার মিনিট যুক্ত করেই পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। টয়লেট টিস্যুও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে প্রস্রাবের অবশিষ্ট থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়া খুবই সহজ। আর তা সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় যেখানে ব্যক্তিগত টয়লেটের ব্যবস্থা নেই সেখানেও তা সঙ্গে থাকলে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা থাকে না। বিষয়টি কঠিন নয়, এজন্য দরকার শুধু অভ্যাসের পরিবর্তন।

ইসলাম যে পবিত্রতা ও নির্মলতার শিক্ষা দান করেছে আধুনিক সভ্যতা ও জীবনধারা এখনো ওই পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। চারদিকে সুরুচি ও

সংস্কৃতিমনাদের এত কলরব, কিন্তু খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তাদের অনেকেই শরীর ও কাপড়ে ‘মূত্রাবশিষ্ট’ বয়ে বেড়ায়! অভ্যাসটাই এই রপ্ত হয়েছে বা রপ্ত করানো হয়েছে, যা কাপড় ও শরীর নাপাক করে রাখে। এই অভ্যাসের পরিবর্তনটাই মূল কাজ। বড় কিছু তো নয়, শুধু টয়লেট সারার সময় সতর্ক থাকা, যেন প্রস্রাব বা নাপাকির ছিটা শরীর বা কাপড়ে না লাগে। এরপর নিশ্চিত হওয়া যে, আর প্রস্রাব ঝরবে না, ব্যস এটুকু অভ্যাস করে নিলেই শরীরও পাক, কাপড়ও পাক।

এখানে পবিত্রতার বিধান ব্যক্তির নিশ্চিত হওয়ার ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। এজন্য যদি চার-পাঁচ মিনিট ব্যয় করতে হয়, তা তো সারা দিনের পবিত্রতার তুলনায় কিছুই নয়। এরপর যখনই নামাজের সময় হচ্ছে, নিকটবর্তী মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে নিন, মসজিদে যাওয়ার সুযোগ নেই তো নিজেরা জামাত করা যাচ্ছে। তাও হচ্ছে না তো একা পড়া যাচ্ছে। তাহলে চিন্তা করুন, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর বাণী ‘কিন্তু সে আজাব কঠিন কোনো বিষয়ে হচ্ছে না’, আজকের জন্যও কত প্রাসঙ্গিক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত