মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশাল জীবনের কাছে হঠাৎ হোঁচট কিছুই নয়

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১২:২১ এএম

গতকাল এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অকৃতকার্য হয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক ও দীর্ঘ জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এ অকৃতকার্য তেমন কিছুই নয়, বরং স্বাভাবিক। ব্যর্থতা ও সফলতা জীবনেরই অংশ। ব্যর্থতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একটি বছর পিছিয়ে গেল এমনটি মনে করার কারণ নেই। কেননা এই একটি বছরকে সুযোগ হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে। কে বলতে পারে, এই সময়টিই হয়তো কাজে লাগিয়ে ভিডিও এডিটিং,  গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রোগ্রামিংয়ের মতো আইসিটির দক্ষতা অর্জন করে এগিয়ে যাওয়ার মহাসুযোগ! সমস্যা ছাড়া জীবন হয় না! বিবিএসের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে বিশাল একটা অংশ রয়েছে অনার্স- মাস্টার্স পাস করা চাকরিপ্রত্যাশী। শুধু বাজারভিত্তিক কাজের দক্ষতা না থাকার কারণে তাদের বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর বসে থাকতে হচ্ছে। সে হিসেবে অকৃতকার্য হওয়ার জন্য এক বছর বিশাল সময় নয়! মেসি, রোনালদো কিংবা শচীন টেন্ডুলকারের মতো বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড়কেও ইনজুরির কারণে মাসের পর মাস বসে থাকতে হয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে হতাশার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। অনেকে আবার আত্মহননের পথ বেছে নেয়! কিন্তু বিশাল জীবনের কাছে এই হঠাৎ হোঁচট তেমন কিছুই নয়! সমস্যা বা চলতি পথের দুর্ঘটনা মনে করে সামনে এগিয়ে যাওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ। এসএসসির কলেজজীবন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্বপ্নময় সময় পড়ে আছে। জীবন এমন এক রেলগাড়ি যেখানে থেমে থাকার সুযোগ নেই। হয় এগিয়ে যেতে হবে, না হয় পিছিয়ে যেতে হবে। জীবন কখনো একই সরল রেখায় চলে না। পৃথিবীতে যারা আজ সফল তারাও ব্যর্থতাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছেন। জ্যাক মা, আলবার্ট আইনস্টাইন, টমাস আলভা এডিসন, স্টিভ জবস, আব্রাহাম লিঙ্কনের মতো পৃথিবী বিখ্যাতরা প্রথম জীবনে সফল হননি। চীনের জ্যাক মা দরিদ্র পরিবার থেকে ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছেন। তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় দুবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। আলিবাবার জ্যাক মা একাধিক চাকরি থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। তিনি এখন সারা বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী। বারবার পরীক্ষায় ফেল করার কারণে জে কে রাউলিং ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়তে পারেননি। কিন্তু তিনিই এখন পৃথিবীতে বিখ্যাত লেখকদের একজন। আমাদের চারপাশে তাকালে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে দেখতে পাব। অধিকাংশই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে পড়ালেখার পাশাপাশি আউটসোর্সিং কাজ করে অন্যদেরও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দার্শনিক লাউরা হেনরি বলেছেন, ‘একটা পরীক্ষা কখনোই তোমাকে তুমি কেমন মানুষ সেটা বিচার করতে পারে না কিংবা তোমার ভবিষ্যৎ নির্ণয় করে দিতে পারে না।’ বিখ্যাত দার্শনিক ও ভারতের রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম বলেছেন, ‘জাতির সবচেয়ে ভালো মেধা ক্লাসরুমের শেষ বেঞ্চ থেকে পাওয়া যেতে পারে।’ অতএব আজ পরীক্ষার ফল নিয়ে হতাশ না হয়ে আবার ভালোভাবে প্রস্তুতি শুরু করাই সমীচীন। জীবনে থেমে থাকলে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অকৃতকার্যদের মানসিক অবস্থা চিন্তা করে এখন শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিবারের অন্য সদস্যদের  এগিয়ে আসা উচিত। এই সাময়িক হতাশার সময়ে তাদের বকাঝকা না করে তাদের সঙ্গ দিতে হবে। তাদের মানসিক সমর্থন দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, জীবনকে সর্বদা ইতিবাচকভাবে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ।

সাধন সরকার

শিক্ষক, লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সীগঞ্জ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত