শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জন্ম থেকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ওপাল এখন শুনতে পায়

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৪:৩৪ এএম

বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নতুন এক যুগান্তকারী জিন থেরাপি ট্রায়ালে অংশ নিয়ে নিজের শ্রবণশক্তি ফিরে পেয়েছে ব্রিটিশ এক শিশু। নাম ওপাল স্যান্ডি নামের মেয়েশিশুটি অডিটরি নিউরোপ্যাথি রোগের কারণে প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্মেছিল। তবে এখন প্রায় স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু শুনছে ১৮ মাস বয়সী ওপাল স্যান্ডি। মাত্র একটি থেরাপি নেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে অন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রেও।

বিবিসি জানাচ্ছে, ওপালের চিকিৎসা হয়েছে কেমব্রিজে অবস্থিত অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে। ট্রায়ালে নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক মানোহার বান্স বলেছেন, তিনি যতটা ভেবেছিলেন, এর ফলাফল তার চেয়েও ভালো হয়েছে। আর এই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য চিকিৎসকও হয়তো এ ধরনের শ্রবণজনিত রোগ নিরাময় করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অধ্যাপক মানোহার বান্স বলেন, ‘আমরা ওপালের চিকিৎসায় যে ফলাফল পেয়েছি, তা অসাধারণ। অনেকটা স্বাভাবিকভাবে শুনতে পাওয়ার কাছাকাছি। তাই আমরা আশা করি, এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব।’

বিবিসি বলছে, অডিটরি নিউরোপ্যাথির পেছনে হাত থাকতে পারে অটফ নামের জিনে থাকা এক ত্রুটির। অটফেরলিন নামের প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে কানের মধ্যে থাকা বিভিন্ন কোষের সঙ্গে শ্রবণ স্নায়ুর সংযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখে এটি।

ওপালের জন্ম অক্সফোর্ডশায়ারে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান কানে একটি কার্যকরী জিন বসানো হয়েছিল, যে চিকিৎসাব্যবস্থা তৈরি করেছে বায়োটেক কোম্পানি রেজেনারন। অস্ত্রোপচারের মাত্র চার সপ্তাহ পরই ওপালের মা-বাবা তার অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষণ খুঁজে পান, যা আরও ভালোভাবে বোঝা গেছে ২৪ সপ্তাহ পর।

ওপালের মা-বাবা জো ও জেমস স্যান্ডি বলছেন, বাড়িতে বিভিন্ন সাউন্ড টেস্টে ওপালের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর তারা একেবারে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন, তাও এ রোগটি নিরাময়ের প্রচলিত উপায়, অর্থাৎ ককলিয়র ইমপ্ল্যান্ট ছাড়াই।

জো স্যান্ডি বলেন, ‘আমি ভেবেছি, এটা অনেকটা ঝড়ে বক মারার মতো ঘটনা বা এমন কোনো আলো বা অন্য কিছু, যা ও চোখে দেখতে পেয়েছে। কিন্তু আমি বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করে দেখেছি।’ তাদের দাবি, ওপাল এখন টেবিলে নিজের চামচে বাড়ি দেওয়ার শব্দ উপভোগ করে। এমনকি বিভিন্ন খেলনা ড্রাম ও কাঠের ব্লক নিয়েও খেলছে শিশুটি।

অবশ্য ডা. মানোহার বান্সের দাবি, ওপালের এই সার্জারি ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্টের কাছাকাছি পর্যায়ের। তিনি বলেন, ‘ওর কানের ভেতরের অংশ (ককলিয়া) উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। আর এই চিকিৎসায় ১৬ মিনিটের বেশি সময় ধরে একটি সূক্ষ্ম নল ব্যবহার করে তা ঠিক করা হয়। আমাদের ওর কানের আরেক অংশে গর্ত বানাতে হয়, যাতে এই চিকিৎসায় নলটি পুরোপুরি কানের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। এরপর আমরা শুধু এটি সূক্ষ্মভাবে মেরামত করেছি, অনেকটা ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্টের মতো প্রক্রিয়ায়, যেখানে আমরা কোনো কিছুই বসাইনি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত