মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় কোনো ফি নিই না

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১১:৩০ এএম

মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময়ই রংপুর বেতারে নিয়মিত সংবাদ পাঠ করতেন, অংশ নিতেন রেডিওর নাটকে। চিকিৎসাবিদ্যা পড়াশোনার বরাতে হয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধান। এখন অবসর। এই অবসরে অভিনয় আর পুরোপুরি চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ডা. এজাজুল হক এজাজ। অভিনয় ও চিকিৎসাবিষয়ক আলাপনে গরিবের ডাক্তার হিসেবে খ্যাত এজাজের মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন

রাজকুমার চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতা কেমন?

রাজকুমার ছবিতে আমার চরিত্রটির নাম সিগন্যাল। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন মজার চরিত্র। হিমেল আশরাফ যখন আমাকে গল্পটা বলেন, তখনই আমার দারুণ ভালো লেগে যায়। এরপর তো শুটিং শুরু করি। অর্ধেক শুটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পর হিমেল আশরাফ আমাকে বলেন, আপনার তো আমেরিকার ভিসা আছে? আমি বললাম না আমার তো ভিসা নেই। কারণ বাকি অংশের শুটিং আমেরিকায়। ভিসা পাব কি না চিন্তার বিষয়। অবশেষে ভিসা পেয়ে গেলাম।

কেমন প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?

আমরা যারা হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে কাজ করেছি, তারা অন্য কোথাও মনের মতো কাজ করতে পারিনি। দীর্ঘকাল পরে একটা দারুণ চরিত্র পেয়েছি। সত্যিই, মন থেকে বলছি, আমরা হয়তো অনেক নাটকে অভিনয় করি, করছি কিন্তু সন্তুষ্টির যে বিষয় তা বহুদিন পরে রাজকুমার ছবিতে অভিনয় করে পেয়েছি। আমাকে সুশীলদের মধ্যে অনেকে ফোন করে বলেছেন, আমার চরিত্রটি তাদের ভীষণ ভালো লেগেছে।

শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করেছেন, আপনার দেখা শাকিব কেমন?

শাকিব খানের সঙ্গে আমি এর আগে তিনটি ছবিতে কাজ করেছি। রাজকুমারে চতুর্থবার কাজ করা হলো। একই সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমার দেখা শাকিব খান ভীষণ সৌহার্দ্যপূর্ণ। শাকিব সহশিল্পীদের সঙ্গে ভীষণ ভালো ব্যবহার করেন। তিনি অভিনেতা হিসেবে বেশ ভালো।

গরিবের ডাক্তারি কেমন চলছে?

আপনিই সম্ভবত ‘গরিবের ডাক্তার’ উল্লেখ করে আমার প্রথম প্রতিবেদন করেছেন। এখন আমাকে শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও বাঙালিরা এই নামে চেনে। রাজকুমার ছবির শুটিং করতে গিয়েছি, সেখানে একজন আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। তিনি বললেন, ‘আপনি তো গরিবের ডাক্তার, শুধু এইজন্য আপনার সঙ্গে আমার দেখা করার বাসনা ছিল। উনি সারা দিন আমার সঙ্গে ছিলেন, গাড়ি নিয়ে ঘুরিয়েছেন। বেশ ভালো একটা অভিজ্ঞতা। আর আমার চেম্বার তো গাজীপুর চৌরাস্তায়। সেখানে আমি মাসের ২১ দিন রোগী দেখি। ৭ দিন শুটিংয়ের জন্য রাখি।

দরিদ্রদের জন্য আপনার সেবার ধরন কেমন?

দেখেন আমি হয়তো সবক্ষেত্রে সবার সহায়তা করতে পারি না। কারণ আমি তো সব ধরনের বিশেষজ্ঞ নই। তারপরেও যারা আমার কাছে আসেন, আমি তাদের সেই মতো হাসপাতালে স্থানান্তর করি। এরপর তার যেন খরচ কম হয়, ওই হাসপাতালে বলে দেওয়ার চেষ্টা করি। আর আমি মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ফি নিই না। কারণ তাদের কাছে আমরা ঋণী। তাদের সেবা করতে পারাটাও সৌভাগ্যের।

চিকিৎসাক্ষেত্রে আপনার কোনো স্বপ্ন আছে কি না?

আমার স্বপ্ন একটা হাসপাতাল তৈরি করার। যেখানে গরিব রোগীদের বিনে পয়সায় চিকিৎসা হবে। ধরেন, কথার কথা আমি যদি কোনোভাবে ৫০ কোটি টাকা পেয়ে যাই-তাহলে আমি কিন্তু কানাডা বা দুবাইয়ে বাড়ি কিনব না। এমন অভিলাষ আমার নেই। আমি সেই টাকা দিয়ে একটা হাসপাতাল করব। কিছুদিন আগে এক অর্থবান ভদ্রলোক এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলছিলেন একটা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করবেন, আমাকে তার সঙ্গে থাকতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে। আমি বললাম আমার একটা শর্ত আছে, ওই হাসপাতালে একটা কর্নার করতে হবে যেখানে গরিব রোগীরা বিনে পয়সায়, বা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন। ওই ভদ্রলোক আর যোগাযোগ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত