গাইবান্ধায় ১৩ শিক্ষকের স্কুলে ১৪ ছাত্রীই ফেল

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৬:৫১ এএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের তারাপুরে ঘগোয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ ছাত্রীর সবাই ফেল করেছে। ওই স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা ১৩। একটি স্কুলে ১৩ শিক্ষকের ১৪ জন ছাত্রী পাস না করায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তবে গত বছর ১৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন পাস করেছিল।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার চরফরাদীতে চরতেরোটেকিয়া মৌজা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৯ জন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। তবে এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। এই স্কুলে গত বছর ১৩ জন পরীক্ষার্থীর ১১ জন পাস করেছিল।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় সারা দেশে গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এমন ভালো ফলাফলের বছর বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রোকসানা বেগম জানান, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৪ শিক্ষার্থী এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি। ৯ শিক্ষার্থী গণিতে ও পাঁচ শিক্ষার্থী অন্য বিষয়ে ফেল করেছে। বিদ্যালয়টির শিক্ষকের সংখ্যা ১৩। কেন এমন ফল হলো, সে বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ জানাতে বলা হয়েছে। ফেলের কারণ জানার পর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। তারা ঠিকমতো ক্লাস নিলে ১৪ ছাত্রীর এমন পরিস্থিতি হতো না।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, বিদ্যালয়টি অনেক পুরনো। ২০০৫ সালের দিকে বিদ্যালয়টি এমপিও হয়। এমন ফলাফলের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিম জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টি চরাঞ্চলে। প্রায় শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের। তাদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কম ছিল। ফলাফল এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি নিয়ে বোর্ডে যোগাযোগ করে ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা হবে। তবে গত বছর ১৬ পরীক্ষার্থীর ১৩ জন পাস করে। তার আগের বছর ২১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ১৭ জন। এ রকম ভরাডুবি কখনো হয়নি। কেন এমন ফলাফল হলো, সেটির কারণ জানতে বলা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাকুন্দিয়ায় ৯ ছাত্রীর ৯ জনই ফেল : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা চরফরাদী ইউনিয়নের চরতেরোটেকিয়া মৌজা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার মোট ৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে মানবিক বিভাগে ৮ ও ব্যবসায় বিভাগে ১ জন অংশ নেয়। তারা সবাই ফেল করেছে। বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। ১৯৯০ সালে পাঠদানের স্বীকৃতি পায় বিদ্যালয়টি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে আমাদের প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যেন ভবিষ্যতে এমনটা আর না হয়।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, এসব স্কুলের বেতন বন্ধ হওয়া দরকার। শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠান চালান। ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের বিষয়ে তারা অমনোযোগী। যার জন্য এমন ফলাফল।

জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুন নাহার মাকছুদা জানান, দুঃখের বিষয়, জেলা পাকুন্দিয়ায় চরতেরোটেকিয়া মৌজা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টিতে ৯ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি। এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত