রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হামাসকে নির্মূল করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশয়

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৬:৫২ এএম

রাফাহ অঞ্চলকে গাজায় হামাসের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি দাবি করে সেখানে অভিযান জোরদারের প্রক্রিয়ায় আছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে গত রবিবার গাজার মধ্যাঞ্চল ও উত্তরের জাবালিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হামাসের লড়াই হয়েছে। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে আরও অন্তত ৫৭ ফিলিস্তিনি। সব মিলিয়ে গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৯১ জনে। আর আহত মানুষের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৮২৭।

উত্তর গাজায় নতুন সংঘাত ও হামাসের প্রতিরোধ নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে, ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময়ের জন্য গাজা উপত্যকায় শক্তিশালী একটি গোষ্ঠী হয়ে টিকে থাকতে পারে হামাস।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও হামাস দুপক্ষই জানিয়েছে, গেল সপ্তাহের শেষ দিকে গাজার উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের সরাসরি যুদ্ধ হয়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনী রাফায় অভিযান শুরু করার পর বিশ্বের দৃষ্টি যখন সেদিকে, সে সময় গাজার উত্তরাঞ্চলে এই লড়াই হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, সাত মাসের এই যুদ্ধে গাজায় এটাই সবচেয়ে পরিচিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে কোনো একটি এলাকা হামাস যোদ্ধামুক্ত ঘোষণা করে। তবে তা খুব বেশি সময়ের জন্য স্থায়ী হয় না। হামাস যোদ্ধারা আবার সংগঠিত হয়ে লড়াইয়ে ফিরে আসছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, গাজার শাসনভার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ইসরায়েল এখনো কোনো ধারণা দিতে না পারায় তিনি হতাশ। এর অর্থ দাঁড়ায়, গাজায় ইসরায়েলের বিজয় স্থায়ী না-ও হতে পারে এবং এর মধ্য দিয়ে সেখানে বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও আবারও হামাসের শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা দিতে পারে।

ব্লিঙ্কেন এবিসি টেলিভিশনকে বলেছেন, ১০ লাখ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সুরক্ষায় কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই। প্রেসিডেন্ট বাইডেন এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যেÑ ইসরায়েল যদি রাফায় বড় ধরনের আক্রমণ করে, তাহলে সেই অপারেশনে ব্যবহার করার মতো জিনিস ও অস্ত্র আমরা দেব না।

ব্লিঙ্কেন বলেছেন, যেভাবে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে আমরা সত্যিই চিন্তিত। বেসামরিক মানুষদের রক্ষা করার কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

সিবিএসকে আলাদা একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল কিছু সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু তাতে প্রচুর বেসামরিক মানুষ মারা গেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী গাজা শহরের জৈতুন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন হামাস যোদ্ধাকে নির্মূল করার ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই সতর্কবার্তা এলো। জৈতুনের পাশের এলাকা জাবালিয়া থেকে গত শনিবার বেসামরিক নাগরিকদের সরে যেতে বলা হয়। সেখানে ওইদিন রাতে দুই ডজনের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে জঙ্গি বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, হামাস যোদ্ধারা মিলিত হচ্ছেন এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা জাবালিয়ার কাছে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তুমুল লড়াই করেছে। এ ছাড়া জৈতুনে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে মর্টার শেল নিক্ষেপ করেছেন যোদ্ধারা।

তীব্র লড়ায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি মিডিয়া। ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেটজ জানিয়েছে, গাজা ভূখণ্ডের উত্তর দিকে প্রবল লড়াই চলছে। রবিবার রাতে ইসরায়েলের সেনা জাবালিয়াতে আক্রমণ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সেখান থেকে প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনিকে চলে যেতে বলেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত