দেশে উইলসন রোগের দুই নতুন ধরন

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৬:৪৬ এএম

দেশে বিরল উইলসন রোগের দুটি নতুন ধরন শনাক্ত করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০ রোগীর মধ্যে ছয়জনের শরীরে রোগটির তিনটি ধরন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি বাংলাদেশে নতুন। নতুন এ দুটি ধরনের চিকিৎসায় বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা টার্গেটেড জিন থেরাপি ব্যবহার করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগ ও এনাটমি বিভাগ যৌথভাবে এই গবেষণা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার এই গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা জানান, উইলসন ক্রটিযুক্ত জিন দ্বারা সৃষ্ট উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত একটি বিরল রোগ। এই রোগে মস্তিষ্ক, যকৃত এবং অন্যান্য অঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত তামা জমা হয়। লক্ষণগুলো সাধারণত মস্তিস্ক এবং লিভারের সঙ্গে সম্পর্কিত। লিভার সম্পর্কিত উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে বমি, দুর্বলতা, পেটে তরল জমা হওয়া, পা ফুলে যাওয়া, ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া ও চুলকানি। মস্তিষ্ক সম্পর্কিত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পন, পেশী শক্ত হওয়া, কথা বলতে সমস্যা, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, উদ্বেগ, মনোবিকার ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক এই রোগটি এড়াতে রক্তের সম্পর্কের, কাছের আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে না করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, উইলসন রোগ মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত।

এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু জানান, বাংলাদেশে প্রতি ৩০ হাজার জেনেটিক ডিস অর্ডারের রোগীর মধ্যে একজন উইলসন রোগী রয়েছে। সে হিসেবে এই রোগীর সংখ্যা ৬ হাজারের মতো। বিএসএমইউতে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। কারও মধ্যে এই রোগটি শনাক্ত হলে তাকে আজীবন চিকিৎসা নিতে হয়।

নিউরোলজি বিভগের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব হেলাল বলেন, এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, রোগীদের বয়সসীমা ছিল ৯-৬০ বছরের ভেতরে। অধিকাংশ রোগী পাওয়া গেছে ৯-৩০ বছরের ভেতরে এবং এ সংখ্যা ছিল ৪৩। গবেষণায় প্রথম জেনারেশনের আত্মীয়দের মধ্যে আক্রান্ত ছিল সাতজন। এই রোগের কারণে স্কুল ছাড়তে হয়েছে ২৬ শিশুকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত