মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কুলখানির আয়োজন নিয়ে দ্বন্দ্ব, হামলায় নিহত ১

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৬:৫৪ এএম

কুষ্টিয়ায় এক মৃত ব্যক্তির কুলখানির অনুষ্ঠান কীভাবে হবে তা নিয়ে মতবিরোধের জেরে হামলায় বকুল বিশ্বাস (৬০) নামে একজন বুকে ফলা বিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ আহত চারজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বকুল বিশ্বাস ওই গ্রামের আফতাব বিশ্বাসের ছেলে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত বকুল বিশ্বাসের নিঃসন্তান চাচি কয়েক দিন আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। বকুলের চাচাতো ভাইয়েরা মৃতের কুলখানি অনুষ্ঠান বড় করে আয়োজন করে সমাজের লোকজনকে খাওয়ানোর দাবি তোলেন। এতে বকুল ও তার পরিবারের লোকজন রাজি হননি। পরে গত শনিবার বকুল সমাজের লোকজন নিয়ে চাচির কুলখানির কাজ শেষ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ চাচাতো ভাইয়েরা তার ওপর হামলা করে।

হামলায় আহত ঝাউদিয়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহিন আক্তার বলেন, সোমবার রাত ১০টার দিকে আমরা স্থানীয় চায়ের দোকানে চা পান করছিলাম। এ সময় বকুলের চাচাতো ভাই শিপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীদের ফলা বকুল বিশ্বাসের বুকে বিদ্ধ হয় এবং আরও ৬-৭ জন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত চারজনকে ভর্তি করা হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘বুকে ফলাবিদ্ধ বকুল বিশ্বাস অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আসার আগেই মৃত্যুবরণ করে। অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিপন বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার এসআই মেহেদী হাসান বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির কুলখানিকে কেন্দ্র করে সামাজিক দলাদলি নিয়ে এই হামলার ঘটনা। নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত