বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী, শত শত কোট-টাই এবং প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ টাকা মূল্যের রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কের ওই দুটি ফ্ল্যাটে মালামালের তালিকা (ইনভেনটরি) তৈরির কাজ শুরু করে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতের আদেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরির কার্যক্রম শুরু হয়। ইনভেন্টরির কাজ এখনও শেষ হয়নি, আগামীকালও চলবে।
জানা গেছে, অভিযানে ৩০০–এর বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ১০০–এর বেশি কামিজ ও ৩ সেট মুক্তার গয়না পাওয়া গেছে। এছাড়া ফ্ল্যাটগুলো থেকে চারটি ঝাড়বাতি, খাট ও সোফা জব্দ করেছে দুদক। এছাড়া রোলেক্সসহ আটটি বিলাসবহুল ঘড়ির খালি প্যাকেট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চারটি রোলেক্স ঘড়ির প্যাকেট। এসব ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও পাওয়া গেছে।
একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের ‘Rolex Cellini Date’ (মডেল-৫০৫১৯)। ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘Harrods’ থেকে কেনা হয়। কার্ডটিতে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর ৫০৫১৯ এবং সিরিয়াল নম্বর ৭৩৪৫২৪৫৯ উল্লেখ রয়েছে।
ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিলাসবহুল ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য দাঁড়ায় ২০ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া সেখানে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি পাওয়া গেছে। সেগুলোর মধ্যে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির চাবিও রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই দুদক উপ-পরিচালক মশিউর রহমানের সই করা চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামীয় সম্পদ ঢাকার গুলশানস্থ রোড নং-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নং-১১, ফ্ল্যাট নং-এ-৭, আয়তন ৩৭৪৭ বর্গফুট এবং (২) ঢাকার গুলশানস্থ রোড নং-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নং-১১, ফ্ল্যাট নং-বি-৭, আয়তন-৩৮৩২ বর্গফুট বিশিষ্ট ফ্ল্যাট ২টির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে দুদক পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ এবং মালামালের ইনভেন্টরি করার সময় দায়িত্ব পালনের জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর (জাবেদ) নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। আর ১৩ জানুয়ারি সাইফুজ্জামানের আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এবতেদায়ী শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বেতনের চেক ছাড়