সৌদি সংবাদমাধ্যমের দাবি

ইরানে নেই মোজতবা খামেনি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজ দেশ ইরানে নেই বলে দাবি করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথ। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত বার্তাগুলোর কোনোটিই তিনি নিজে লিখছেন না।

ওইসব বার্তা লিখছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নতুন প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি ও বাহিনীর অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা, যাতে দেশে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি কৃত্রিম আবহ তৈরি করা যায়। তবে তিনি বর্তমানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গার নাম বা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরম আকার নিয়েছে। এই ফাটল এতটাই গভীর যে, তা আইআরজিসির অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলেছে।

বর্তমান সংঘাত নিয়ে ইসরায়েলি সূত্রটি বলছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়ও, তারপরও যুক্তরাষ্ট্র চায় ইসরায়েল যেন ইরানে কোনো পাল্টা হামলা না চালায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তার পরিবারের অনেকে নিহত হয়। সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন মোজতবা। এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতি দিচ্ছেন, জনসমক্ষে আসেননি বা এখন পর্যন্ত তার বর্তমান কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়নি। এমনকি বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও জানাজাতেও মোজতবাকে দেখা যায়নি।

এর আগে মার্চ মাসে কিছু পশ্চিমা ও কুয়েতি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় মোজতবাকে চিকিৎসার জন্য গোপনে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং দেশটির রাজধানী মস্কোতে চিকিৎসা চলছে। তবে পরবর্তীতে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর অস্বীকার করা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে হামলায় খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে তার একটি পা বা উভয় পা-ই গুরুতর আঘাত লেগেছে। একটি সূত্র বলছে খামেনি একটি পা হারিয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ নেতার আঘাতের মাত্রা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ইরান সরকার।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত