ভারতীয় নিউজ পোর্টাল নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থর গ্রেপ্তার বেআইনি এবং তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার (১৫ মে) বিচারপতি বি আর গাভাই ও সন্দীপ মেহতা এ রায় দেন।
রায়ে তারা বলেন, বেআইনি কাজ বন্ধ আইনে যেভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা আইনসম্মত ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর প্রবীর পুরকায়স্থকে নিম্ন আদালতে জামিন বন্ড জমা দিতে হবে। তারপরই তিনি মুক্তি পাবেন।
গত বছরের ৩ অক্টোবর প্রবীর পুরকায়স্থকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে চীনা সংস্থা থেকে টাকা নিয়ে ভারত সরকারের বিরোধিতার অভিযোগ আনা হয়। দেশদ্রোহিতার অভিযোগে সেই থেকে তিনি তিহার জেলে বন্দি ছিলেন।
সরকার বিরোধিতার অভিযোগে নিউজক্লিক অনেক দিন ধরেই রাষ্ট্রের নজরে ছিল। গত বছরের শেষ দিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতবিরোধী কার্যকলাপ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করতে সংবাদমাধ্যমটিতে বিনিয়োগ করেছে চীন। সে কারণে তারা চীনের হয়ে প্রচার করে।
এরপর প্রবীর পুরকায়স্থর বিরুদ্ধে বেআইনি কাজকর্ম, সন্ত্রাসবাদী কাজ ও সে জন্য অর্থ সংগ্রহ, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ওই সংবাদমাধ্যমের দপ্তরও সিল করে দেওয়া হয়। প্রবীরের সঙ্গে ওই পোর্টালের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান অমিত চক্রবর্তীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি রাজসাক্ষী হন।
প্রবীরের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি করেন আইনজীবী কপিল সিব্বাল। গত ৩০ এপ্রিল শুনানি শেষ হলেও সুপ্রিম কোর্ট রায় স্থগিত রেখেছিলেন। সেদিন শুনানিতে প্রবীর পুরকায়স্থর গ্রেপ্তারি আইনসম্মত ছিল না জানিয়ে কপিল সিব্বাল বলেছিলেন, কী কারণে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে দিল্লি পুলিশ তা তার মক্কেলকে জানায়নি। এমনকি তার আইনজীবীকে না জানিয়েই দিল্লি পুলিশ তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করে।
এ নিয়ে প্রবীর পুরকায়স্থ আপত্তি করায় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের খবর তার আইনজীবীকে ফোনে জানান এবং হেফাজতের নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতিরা বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে হেফাজতের আবেদন জানানোর সময় প্রবীরের আইনজীবীর উপস্থিত থাকা উচিত ছিল।
সাংবাদিকদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ
নিউজ ক্লিকে চীনা বিনিয়োগ, গ্রেপ্তার ভারতীয় সম্পাদক
নিউজ ক্লিকের সম্পাদক ৭ দিনের রিমান্ডে
সম্পাদক জেলে, বেতন হচ্ছে না নিউজক্লিক কর্মীদের