মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কর্তার গাড়ি বাড়ি ছিল কর্মচারীর দখলে

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৫:৩৬ পিএম

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সহকারী হিসাবরক্ষক ছিলেন মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী। একসময় তিনি সংস্থাটির কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। নেতা হওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে পিডিবির একজন শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তার পাজেরো গাড়ি ও প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার একটি বাসা দখল করেন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপরই তিনি গাড়ি ফেরত দেন। দুদকের করা মামলার তদন্তকালে জহিরুল ইসলামের ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগের বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। এরপরই দুদক তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানে নামে। জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২০ জুলাই পিডিবির সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক খলিলুর রহমান সিকদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, তারা শ্রমিক সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে ১০ বছরে পিডিবির দুটি পাজেরো জিপ ব্যবহার, গাড়ি চালক, গাড়ির তেল ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ব্যয়ের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি করেন। মামলার পর দুদক পিডিবির সভাপতি জহিরুল ইসলামের দখলে থাকা সিলেট মেট্রো-ঘ-০২-০০৩৩ গাড়িটি উদ্ধার করে। উদ্ধার করা হয় অন্য কর্মচারী নেতা আলাউদ্দিনের দখলে থাকা ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-২৮২৭ নম্বর গাড়িটিও।

জানা গেছে, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করার পর মামলার তদন্তকালে তার ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগের বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। এরপরই দুদক তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংস্থাটির ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদকে। তিনি অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে চলতি বছর ২৫ এপ্রিল জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠান। চিঠিতে ১২ মে’র মধ্যে তাদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য দুদকে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালে সিবিএ সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ী অফিসার্স কোয়ার্টারে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ‘এ’ ক্যাটাগরির একটি বাসা ১০ বছর ধরে নিজ দখলে রাখায় সরকারের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি পিডিবির ভলিবল কোচ হিসেবে প্রতি বছর ৩ লাখ টাকার অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে সংস্থার আর্থিক ক্ষতি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি আফতাবনগরের উত্তরপাশে আনন্দনগরে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফতেপুরে তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ ও একটি ইটভাটা করেছেন। মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে শেয়ার রয়েছে জহিরুল ইসলামের। সেখানে তার কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টে দ্বিতীয়তলায় ছোট ভাই শরিফ চৌধুরীর নামে দুটি দোকান ক্রয় করেছেন। রাজধানীর বাসাবোতে পাটোয়ারী গলিতে একটি প্লট ক্রয় করেছেন। আফতাবনগর পিজিসিবি অফিসের কাছে বিভিন্ন নামে ২৮ কাঠা জমি কিনেছেন। রাজধানীর গুলশান ও মোহাম্মদপুরে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট। তিনি যৌথভাবে শেরপুরে কয়েক বিঘা জমির ক্রয় করে বাগানবাড়ি তৈরি করেছেন। রংপুরে যৌথ মালিকানায় মেসার্স সরকার ফিলিং স্টেশন করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে স্ত্রী-সন্তান ও নিজ নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত