জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থী হৃদরোগে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করতে চান। তার নাম ফতেহ আলী খান আকাশ। তিনি জবির ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে কিডনি বিক্রি করার জন্য সহযোগিতা চেয়ে একটি পোস্ট দেন আকাশ, যা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।
ওই ফেসবুক পোস্টে ফতেহ আলী খান আকাশ লিখেছেন, ‘আব্বুর হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। অক্সিজেন মিটার ৩৫%-এ নেমে আসছে। জরুরি ভর্তি করাতে হবে। ডাক্তার বলছেন পেসমেকার লাগাতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। কিন্তু এই মুহূর্তে পেসমেকার লাগানোর মতো এত টাকা আমার কাছে নাই। তাই আমি আমার একটা কিডনি বিক্রি করে দিতে চাচ্ছি। ঢাকায় কোথায় কিডনি বিক্রি হয়? এক কিডনি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারব, আব্বুকেও বাঁচাতে পারব।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আকাশ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আব্বুকে আজ (গতকাল) সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) ভর্তি করিয়েছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আব্বুর পেসমেকার লাগাতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। এ জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রয়োজন। এর বাইরেও চিকিৎসার কাজে আরও কিছু খরচ হবে। কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা নেই, আব্বুকে বাঁচাতে আমার টাকার প্রয়োজন। কিডনি বিক্রি করে হলেও আমি চিকিৎসার খরচ জোগাতে চাই।’
কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে নেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি আব্বুর চিকিৎসার জন্য কোনো হাসপাতাল, ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে তাহলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।’
আকাশের সঙ্গে যোগাযোগের ঠিকানা ০১৭৯৯৫১০৭৮৩ ও ০১৬০৩৫৮১৬৩৮।
কিছুদিন আগে আকাশের মা মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু মহিউদ্দিন রিফাত।
ফেসবুকে দেওয়া আকাশের পোস্ট অনেকেই শেয়ার করছেন। ইতিমধ্যে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র ও সহপাঠীরা যোগাযোগ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি। তবে বাংলা বিভাগের এক শিক্ষক খোঁজ নিয়েছেন।
করোনাকালে হাসপাতালে গিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের গান শুনিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান আকাশ। জবি ক্যাম্পাসেও গানের জন্য জনপ্রিয় এ শিক্ষার্থী।
