মেয়েদের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ শুরু হচ্ছে কাল থেকে। প্রথম দিনেই মাঠে নামছে মোহামেডান। প্রতিপক্ষ জাবিদ আহসান সোহেল ক্রিকেট ক্লাব। মাঠে নামার আগেই অবশ্য দলটিতে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। দ্বন্দ্বে জড়িয়ে দল ছেড়েছেন দলটির কোচ ইমতিয়াজ হোসেন লিপু।
গত মঙ্গলবার মোহামেডান নারী ক্রিকেট দলের ম্যানেজার ওয়াসিম খানের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় দল ছেড়ে যান ইমতিয়াজ। বেশ লম্বা সময় ধরে মোহামেডানের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, ওয়াসিম কাজে হস্তক্ষেপ করেন।
ইমতিয়াজ বলেছেন, ‘ম্যানেজারের সঙ্গে আমার মনোমালিন্য হয়েছে। আমি বলেছি, ওয়াসিম ভাই থাকলে আমি থাকবো না, আর আমি কাজ করলে ওয়াসিম ভাই দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। আমি স্বাধীনচেতা মানুষ। কেউ কাজে হস্তক্ষেপ করলে আমি মেনে নেব না। আমার ব্যক্তিত্ব আছে।’
দুজনেই মোহামেডানের সঙ্গে অনেক দিন ধরে জড়িত আছেন। এ জন্য কাজের হস্তক্ষেপের বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি ইমতিয়াজ। তিনি মনে করেন, তাতে ক্লাবের সুনাম ক্ষুন্ন হবে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে বিস্তারিত বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে যাকে নিয়ে অভিযোগ সেই ওয়াসিম অবশ্য বলেছেন, ‘অনেকবার ফোন দিলেও ইমতিয়াজ আমাদের ফোন ধরছেন না।’
তবে কোচের সঙ্গে মনোমালিন্যের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এবার কলবাগানের সাবেক কোচ রিজভীকে নিয়োগ দিয়েছি। বিষয়টা ইমতিয়াজ ভালোভাবে নেননি। কোচকে দেখার পর হুলস্থুল করে চলে যান তিনি।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমি দলের প্রধান কোচ। আমাকে না জানিয়েই একজন কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগেও ওয়াসিম বলেছেন। তখন আমি কোচ নেওয়ার জন্য নিষেধ করেছি। কিন্তু পরে তিনি আমাকে না জানিয়েই একজন কোচ দলের সঙ্গে যুক্ত করেন।’
ওয়াসিম দাবি করেন, ‘ইমতিয়াজের অধীনে দলের পারফরম্যান্স ভালো নয়। এজন্য আমরা আরেকজন কোচ নিয়োগ দিই। ইমতিয়াজ যেহেতু দীর্ঘদিন মোহামেডান নারী ক্রিকেট দলের সঙ্গে আছেন এজন্য তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাকে এবারও আমরা দলের সঙ্গে রেখেছিলাম।’
এ বিষয়ে ইমতিয়াজের বক্তব্য, ‘মাঠের পারফরম্যান্স ভালো না হলে সে দায় কি সব সময় কোচের? আমি তো প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি দেখি না। মাঠে ক্রিকেটাররা ভালো না খেললে আমি কি করতে পারি।’
