জামালপুর

বন্যায় সেতু ভেঙে ভোগান্তিতে ২৫ হাজার মানুষ

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ০৩:৩০ পিএম

জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া খালের ওপর নির্মিত সেতু পাঁচ বছর আগে ভয়াবহ বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে ভেসে যায়। এতে উপজেলা শহরের সঙ্গে সেতুর পশ্চিম পাশের পাঁচটি গ্রামের সড়ক যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে ও বর্ষায় নৌকায় চলাচল করেন ওই এলাকার মানুষ। যানবাহন চলাচল না করায় ভোগান্তিতে রয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বাঙ্গালপাড়া খালের ওপর ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু ছিল। সেতুটির পশ্চিম পাশের বাঙ্গালপাড়া, গাজীরপাড়া, চর গাজীরপাড়া, কতুবেরচর ও দপড়পাড়া গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় পুরো সেতুটি পানির স্রোতে ভেঙে যায়। এতে ওই পাঁচটি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন এসব গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। 

শুক্রবার (১৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল একটি খাল। শুকনো মৌসুম হওয়ায় খালের মধ্যে পানি অনেকটাই কম। খালের মধ্যে সেতুর কোন চিহ্নও নাই। তবে সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাশে ভেঙে যাওয়া সেতুর কয়েকটি কংক্রিটের খণ্ড রয়েছে। সেতুর দক্ষিণ পাশ দিয়ে লোকজন পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। তবে এই পথে এখন আর কোনো যানবাহন চলাচল করে না। 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, যানবাহন নিয়ে উপজেলা শহরে যেতে হলে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়। এতে তাদের অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়। 

গাজীরপাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই খালের ওপর সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা খুবই কষ্টে আছি। আগে সেতুটি পার হয়ে, মাত্র ১০ মিনিটে উপজেলা শহরে যাওয়া যেত। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পথ ঘুরে উপজেলা শহরে যেতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় লোকজনদের। বন্যায় ও বর্ষা মৌসুমে গ্রামবাসীদের অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়।’

কুতুবেরচর এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, ‘ওই পাঁচটি গ্রামে ব্যাপক ফসল চাষাবাদ হয়। সেতুটি না থাকায় ওই পাঁচ গ্রামের মানুষ তাদের ফসল ঠিকমতো বাজারে নিতে পারেন না। এতে কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। মানুষের ভোগান্তি কমাতে ওই খালের ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।’  

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ওই পাঁচটি গ্রামের মানুষের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে কামালের বাত্তী সড়ক দিয়ে যেতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বেশি লাগে। মানুষ আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শুধু তাই-নয়, বর্ষার সময় শিক্ষার্থীরাও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। ওই পাঁচটি গ্রামের মানুষের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, দ্রুত সময়ে মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয়।’ 

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো.জিয়াউর রহমান বলেন, ‘সেতুটির কারণে ওই পাঁচ গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ। নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে অবগত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। মানবিক কারণে হলেও সেখানে একটি সেতু নির্মাণ হওয়া খুবই দরকার।’ 

এ বিষয়ে বকশিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো.শামছুল হক বলেন, ‘ওই খালের ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত