চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজের শিক্ষককে কিল-ঘুষির ঘটনায় ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো সাফাতুন নুর চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি।
শুক্রবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ওই নেতা হলেন যুগ্ম আহবায়ক মো. সাফাতুন নুর চৌধুরী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থী এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে মো. সাফাতুন নুর চৌধুরী (যুগ্ম আহবায়ক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা, চন্দনাইশ)-কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকাল ১১টার দিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার কক্ষে ফরম পূরণের কাজ করছিলেন ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কে. এম আতিকুর রহমান। ঠিক ওই সময়ে সেমিনার কক্ষে উপস্থিত হন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মো. সাফাতুন নুর চৌধুরী। এ সময় সেমিনার কক্ষে থাকা একটি নষ্ট ফ্যান দেখিয়ে ঠিক করানোর কথা বলেন। ড. কে. এম আতিকুর রহমান ফ্যানটি নতুন করে লাগানো হবে বলে জবাব দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জানালার পর্দার পাইপ খুলে ফ্যানে আঘাত করলে অফিস সহায়ক প্রযুক্ত পালের মাথায় সজোরে লাগে। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে অধ্যক্ষের কক্ষে নেন উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা।
তাদের পিছু পিছু ঝড়ের বেগে ছুটে আসেন ছাত্রলীগ নেতা সাফাতুন নুর। সেখানে উপাধ্যক্ষ ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আবদুল খালেকসহ অন্যান্য সব শিক্ষকরা উপস্থিত হন। তাদের সঙ্গেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই ছাত্রলীগ নেতা। একপর্যায়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই ড. কে.এম আতিকুর রহমানকে অশ্রাব্য গালিগালাজসহ কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে তিনি আহত হন। এরইমধ্যে আহত সেমিনার সহকারী প্রযুক্ত পালকে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
