ভয়াবহ পর্যায়ের ‘গণহত্যা’ অস্বীকার ইসরায়েলের

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৩২ এএম

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দক্ষিণ আফ্রিকার করা আবেদনের ওপর দ্বিতীয় ও শেষ দিনের শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগ, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় গণহত্যা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার্থেই গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে তারা। এ ছাড়া জাতিসংঘের এই শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার ওই আবেদন নাকচ করে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েল। গত শুক্রবার দাখিল করা এ আবেদনে দক্ষিণ আফ্রিকা গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করা ছাড়াও সেখানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও রাফাহ শহরে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিতে আদালতের কাছে অনুরোধ জানায়।

শুনানির প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকা তার আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে। শুনানিতে দেশটি অভিযোগ করেছে, গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত শুক্রবার জাতিসংঘের শীর্ষ এ আদালতে আবেদনটি করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গাজায় ইসরায়েলের চলমান অভিযান ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পর এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো আদালতটির কাছে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাল দেশটি। এর আগে উপত্যকাটিতে গণহত্যার অভিযোগ এনে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী ভুসিমুজি ম্যাডোনসেলা বলেন, ‘শেষবার আমরা যখন আদালতে এসেছিলাম, আশা করেছিলাম, ফিলিস্তিন ও এই ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের রক্ষায় গণহত্যা বন্ধ হবে। তবে তেমনটি হয়নি। গণহত্যা চালিয়ে গেছে ইসরায়েল। (বর্তমানে) তা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।’ দেশটির আরেক আইনজীবী ভন লোয়ে বলেন, রাফায় ইসরায়েলের অভিযান বন্ধের জন্যই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে সব ফিলিস্তিনির গণহত্যা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আর এই সুরক্ষা দেওয়ার আদেশের মাধ্যমে সে সুযোগ করে দিতে পারে আইসিজে।

গতকালের শুনানিতে অংশ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা। তারা আদালতকে বলেন, এটি বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী এ মামলাকে জাতিসংঘের জাতিগত নিধন সনদের সঙ্গে ঠাট্টা বলে আখ্যায়িত করেন। ইসরায়েলের প্রতিনিধি গিলাড নোয়াম আইসিজেকে বলেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এ আদালতে চতুর্থবারের মতো যে চিত্র তুলে ধরেছে, সেটি বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

গাজার অতি ঘনবসতিপূর্ণ রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা বন্ধে আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া প্রসঙ্গে ইসরায়েল বলেছে, হামাস যোদ্ধাদের নির্মূল করার জন্য এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ।

আইসিজেতে নোয়াম বলেন, রাফায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির ব্যাপারে পুরোপুরি অবগত আছে ইসরায়েল। এই বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার হামাসের চেষ্টার বিষয়েও ইসরায়েল সম্পূর্ণ অবগত।

দুই দেশের মধ্যে বিবাদমান কোনো বিষয় সমাধানে রায় দিয়ে থাকে আইসিজে। এ রায় মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে তা মানতে জোর খাটানোর এখতিয়ার নেই আদালতটির। যেমন ইউক্রেনে হামলা বন্ধে রাশিয়াকে আদেশ দিয়েছিল আইসিজে। তবে তা মানা হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত