পুতিনকে উৎখাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর চেষ্টা ব্যর্থ

আপডেট : ১৯ মে ২০২৪, ১১:২২ এএম

এরিক দোনেসে ফ্রেঞ্চ সেন্টার ফর ইন্টেলিজেন্স স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। কর্মজীবনে নেভাল ইন্টেলিজেন্স অফিসার ছিলেন। এ ছাড়া কম্বোডিয়ার গেরিলাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তার মিয়ানমারে কাজ করার পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিবাদ ও ফ্রান্স স্পেশাল ফোর্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। ‘সাউথ ফ্রন্ট’-এ প্রকাশিত প্রেইরো মেসিনাকে দেওয়া  সাক্ষাৎকারটি দেশ রূপান্তরের জন্য ভাষান্তর করেছেন উন্নয়নকর্মী ও কলামিস্ট নাজমুল আহসান

প্রশ্ন : ৩০ বছরের আগেও রাশিয়াকে ন্যাটো সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারপর কী হলো?

এরিক দোনেসে : ন্যাটোর প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ সম্পর্কে জানতে ফিরে যেতে হবে ১৯৯০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারিতে। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার ও মিখাইল গর্ভাচেভের মধ্যকার আলোচনায় প্রতিশ্রুতি ছিল ন্যাটো ‘কখনো পূর্বদিকে এক ইঞ্চিও অগ্রসর হবে না’। পরবর্তী সময় ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে পশ্চিমা নেতারা সোভিয়েত রাশিয়ার নেতাদের একই প্রতিশ্রুতির পুনর্ব্যক্ত করেন। এই প্রতিশ্রুতির কথা নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোল্যান্ড দুমাস এবং সাবেক রাশিয়ান কূটনৈতিক ভ্লাদিমির ফেদোরভস্কি। তারপর ন্যাটো ধারাবাহিকভাবে পূর্ব ইউরোপে তার প্রভাব বাড়িয়েছে, নতুন সদস্য যুক্ত করেছে এমনকি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিস্তৃত হয়ে একে একটি চীনবিরোধী জোট হিসেবে প্রকাশ করেছে।

প্রশ্ন : ব্রাসেলসে ন্যাটোর প্রধান কার্যালয় জানায়, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে শুধু কিছু স্বাধীন দেশের অনুরোধ রক্ষা করেছে, এটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?

এরিক দোনেসে : আজকের পরিস্থিতি তৈরিই হতো না যদি ওয়ারশ চুক্তি বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটোও নিজেকে গুটিয়ে নিত। কিন্তু আমেরিকানদের তা করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না কারণ এই জোটটি ইউরোপের রাষ্ট্রসমূহকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকরী উপায়। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, ন্যাটোর ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ও মস্কোকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার না করার ধারণার প্রতিপালনে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে অগ্রাহ্য করেছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৮২৩ সালে মনরো ডকট্রিন গ্রহণ করে, যেখানে প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে আমেরিকা মহাদেশে যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিষিদ্ধ করা হয়। তাদের এই দ্বিমুখী নীতি রাশিয়ানদের ক্ষুব্ধ করে।

প্রশ্ন : গত কয়েক বছরে ইউক্রেনের ইতিহাস খুব জটিল ছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কী এমন ঘটেছে? দেশটির ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনে যারা ভূমিকা পালন করেছে তারা কারা?

এরিক দোনেসে : ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত ইউক্রেনের দ্বিতীয় ধাপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি বড় আন্দোলন তৈরি হয়, যা ‘অরেঞ্জ রেভল্যুশন’ নামে পরিচিত। নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে ইউরোপ সমর্থিত প্রার্থী ভিক্টর ইউশচেঙ্কো এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিজয়ী ঘোষণা করে পুতিন সমর্থিত ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে। নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। যার প্রেক্ষিতে ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউক্রেনের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন বাতিল করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে নতুন নির্বাচনের আদেশ দেয়। এবার ভিক্টর ইউশচেঙ্কো বিজয় লাভ করে। এর মাধ্যমে কিয়েভে একটি পশ্চিমাপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শান্তিপূর্ণ ‘অরেঞ্জ রেভল্যুশন’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বেশ কিছু পশ্চিমা এনজিও ও সংস্থা দ্বারা সমর্থিত ও আর্থিক সহযোগিতা পুষ্ট ছিল। কিন্তু নতুন শাসনকাল শিগগিরই ধারাবাহিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়। চার বছরের কম সময়ে তিনজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেন, দুটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ‘অরেঞ্জ কোয়ালিশন’ বা কমলা জোট ভেঙে যায়। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিবাদের কারণে কমলা বিপ্লবের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল দ্রুত তার পতন হয় এবং দেশটি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১০ সালে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ বৈধভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, বিশেষ করে পূর্ব ইউক্রেনের রুশ ভাষাভাষী মানুষের সমর্থনপুষ্ট হয়ে। তিনি তখন রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিনিময়ে ইউরোপের সঙ্গে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক সংযুক্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। যার প্রভাবে তাকে ২০১৪ সালে মার্কিন সহায়তাপুষ্ট এক গণঅভ্যুত্থানে (মাইডান ক্যু) ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়।

 প্রশ্ন : ইউরোপিয়ান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত দুই দশক ধরে ইউক্রেন বিষয়ে বেশ সক্রিয় ছিল। কেন ২০০৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২২ সাল পর্যন্ত সব ইতিহাস দৃশ্যত মুছে গেল?

এরিক দোনেসে : পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সবাই ইউক্রেনের বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবেই সচেতন ছিল (শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থা, দুর্নীতি, মাফিয়া ও নব্য-নাজি গ্রুপগুলোর উত্থান), একে ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে একটি ‘গ্রে জোন’ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু মস্কোকে বসে আনার জন্য আমেরিকানরা এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে মনস্থির করল। যাতে রাশিয়া নিশ্চিতভাবে দুর্বল হয়। সুতরাং তারা পরিকল্পিতভাবে সংঘাত বাড়িয়েছে এবং সবকিছুর জন্য মস্কোকে দোষারোপের চেষ্টা করেছে। আর এটা করতে গিয়ে তারা ২০০৪ সালের বিপ্লব এবং ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা ভুলে যেতে চেয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ‘একনায়ক’ পুতিন ও তার সম্প্রসারণমূলক নীতির বিপক্ষে নিজেদের সঠিক ও গণতন্ত্রকামী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

প্রশ্ন : ২০১৫ সালে মিনস্ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কয়েক বছর পরে আমরা দেখব, সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বলবেন এটা ছিল সময়ক্ষেপণের কৌশল। এই ঘটনার পর রাশিয়াকে কীভাবে সমঝোতা টেবিলে বসতে রাজি করা যাবে?

এরিক দোনেসে : জার্মানি ও ফ্রান্সের মিনস্ক চুক্তির ইচ্ছাকৃত বরখেলাপ একটি সত্যিকারের কলঙ্ক। যা বিশ্ববাসী এবং রাশিয়ার কাছে একটি প্রতারণা। মনে রাখা প্রয়োজন, এর সবকিছুই করা হয়েছে ওয়াশিংটনের সমর্থনপুষ্ট হয়ে। মস্কোর কাছে যা ছিল পশ্চিমা দ্বৈত নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত ও তার বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসী পরিকল্পনার অংশ এবং অবশ্যই শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সব প্রতারণার মধ্যে শীর্ষে।

প্রশ্ন : এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো কী? এটা কী সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা ধরে রাখতে রাশিয়াকে ইউরোপ থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা?

এরিক দোনেসে : সংঘাতে উসকানি দেওয়ার ক্ষেত্রে মূলত আমেরিকার দুটি উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমটি রাশিয়াকে দুর্বল করা, পুতিনকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং রাশিয়ার সম্পদ পশ্চিমা প্রভাব বলয়ে নিয়ে আসা, যাতে ভবিষ্যতে চীনকে মোকাবিলা করা যায়। দ্বিতীয়টি ছিল, রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদের ওপর নির্ভরশীল ইউরোপিয়ান দেশগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষত ব্রেক্সিট পরবর্তী লন্ডন যখন আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছিল না, ফ্রাঙ্কো-জার্মান জোট ক্রমাগত আত্মনির্ভরশীলতার কথা বলছে তখন ওয়াশিংটনের জন্য তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। রাশিয়ার একাগ্রতা, সক্ষমতা ও সহনশীলতার কারণে প্রথম উদ্দেশ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তবে দ্বিতীয় উদ্দেশ্য বিবেচনায় তারা পুরোপুরি সফল। এখন ইউরোপ গ্যাস ও অস্ত্র সরবরাহের জন্য যে কোনো সময়ের থেকে আরও বেশি ওয়াশিংটনের মুখাপেক্ষী ও নির্ভরশীল হয়েছে।

প্রশ্ন : ইউক্রেন ও রাশিয়ার এই সংঘাত কী দুটি ভিন্ন বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে প্রথম কোনো সংঘাত : যার মধ্যে রয়েছে এককেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা ও বহুপক্ষীয় কাঠামো যা ব্রিকসের মধ্যে আছে?

এরিক দোনেসে : এই সংঘাত মূলত দুটি ভিন্ন বিশ্ব ব্যবস্থার মধ্যকার দ্বন্দ্ব। যার একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পতনশীল পশ্চিমা বিশ্ব। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক নেতৃত্ব ও সাম্রাজ্যবাদ দুটোই শক্তিশালী হচ্ছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলো সব সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে শুধু আনুগত্য প্রকাশ করছে। অন্যদিকে রাশিয়া বেশিরভাগ ব্রিকস রাষ্ট্র বা তথাকথিত ‘সাউদার্ন’ দেশগুলোর মতো নিজেদের সার্বভৌমত্ব, সংস্কৃতি ও অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে এই গোষ্ঠী কোনোভাবেই কিছু কর্র্তৃত্ববাদী ও দুর্বৃত্তায়ন দেশের সমষ্টির বেশি কিছু না। মজার বিষয় হচ্ছে, আমাদের দাবি যে আমরা ‘ভালো’, ‘সঠিক’ ও ‘গণতান্ত্রিক’ মূল্যবোধকে লালন করছি, তবে আদৌ তা সত্যি নয়।

প্রশ্ন : ইউরোপ তাদের সব সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করছে। ইউরোপের নিজের কোনো সুনির্দিষ্ট পররাষ্ট্রনীতি নেই, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নির্দেশিত নীতিই অনুসরণ করে। সে ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্থকতা কী?

এরিক দোনেসে : অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগের থেকে অনেক বেশি বিভক্ত। ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার মতপার্থক্য আরও বাড়িয়েছে। প্রথমত, অনেক দেশ নিজের স্বার্থ আদায়ে জাতীয় অহংবোধ নিয়ে আছে : যেমনটা প্রযোজ্য পোলাল্ড ও বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে। ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে এই রাষ্ট্রগুলোর শত্রুতার সম্পর্ক আছে। রাশিয়ার প্রতি তাদের অশেষ ঘৃণা ইউরোপের জন্য ক্ষতিকর। এর বাইরে, বর্তমানে ওয়াশিংটন-লন্ডন-ওয়ারশ সম্মিলিত শক্তির যুদ্ধাংদেহি মনোভাব ইউরোপের নীতিকে পরিচালিত করছে।

প্রশ্ন : গণমাধ্যম ইউক্রেন যুদ্ধকে কীভাবে দেখছে? এটা কী শুধু একপেশে, যা প্রায়ই ঐতিহাসিক সত্যকে মুছে দিচ্ছে? এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণ কী এবং কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

এরিক দোনেসে : প্রথম দুই বছর, ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু লাগামহীন তথ্য যুদ্ধ ছড়িয়েছে, একে অপরের সমর্থনপুষ্ট গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে, যা শুধু নিজেদের মতামতকে প্রভাবিত করতে পেরেছে। এর ফলাফল স্বরূপ রাশিয়ার প্রোপাগান্ডা পর্যালোচনা করা পশ্চিমাদের কাছে কষ্টকর রয়ে গেছে, একই সঙ্গে তার বার্তাসমূহ বোঝাও অসম্ভব ছিল। অন্যদিকে দুই বছর ধরে ইউরোপিয়ান গণমাধ্যম অন্ধভাবে ইউক্রেন ও আমেরিকার উদ্দেশ্যমূলক অপতথ্য ছড়িয়ে গেছে। তাই কিয়েভের প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞ, তাদের আমেরিকান উপদেষ্টা, অনুগত গণমাধ্যমের কৌশলের ওপর আলোকপাত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের নিজস্ব বর্ণনা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য গল্প বলার সব কৌশল ব্যবহার করেছে, জনগণকে তাদের বক্তব্য দ্বারা প্রভাবিত করেছে, যুদ্ধের জন্য সব দায়িত্ব মস্কোর ওপর চাপিয়েছে এবং সব নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিকে নিষ্ক্রিয় করছে। এখন উভয়পক্ষের তথ্যের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া যে কোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সংঘাতে পশ্চিমা গণমাধ্যম রাশিয়ার গণমাধ্যমের থেকে নির্ভরশীল বা নিরপেক্ষ না।

প্রশ্ন : ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ন্যাটো তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করত। মধ্য ইউরোপের জন্য নিয়োজিত সেই নেটওয়ার্কগুলো কি আগের অবস্থায় আছে?

এরিক দোনেসে : ইউক্রেনে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে এ ধরনের নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করে আমেরিকান ও ব্রিটিশরা। তারা কিয়েভের সামরিক বাহিনী ও স্পেশাল সার্ভিস উভয় ক্ষেত্রের বিশেষ ইউনিটকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই ইউনিটগুলোকে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করা হয় এবং পরবর্তী সময় রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এরা এখন রাশিয়ায় আক্রমণাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত