যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’ এ সময় বিএনপি একটি ‘জালিয়াত রাজনৈতিক দল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে মহানগর আওয়ামী লীগ।
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোলান্ড লুর সাম্প্রতিক সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কীভাবে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাব, সেটি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। এমনকি আমরা যদি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু রিফর্ম করি, তাহলে আমাদের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়ার অভিপ্রায়ও তারা ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে তাদের একটি বিশেষ তহবিল আছে, সেখান থেকে সাহায্য করার কথাও বলেছেন।’
‘বিএনপিকে একটা জালিয়াত রাজনৈতিক দল’ বলেও এ সময় মন্তব্য করেন ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘গত বছর ২৮ অক্টোবর জো বাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টাকে বিএনপি হাজির করেছিল। ভুয়া উপদেষ্টা যখন বিএনপি কার্যালয়ে, তখন দেখি শুধু ইংরেজি বলে। পুলিশ যখন ধরে নিয়ে গেল, তখন দেখি গড়গড়াইয়া বাংলা বলে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার আগে বিএনপি কংগ্রেসম্যানদের সই জাল করেছিল। সেই সময়ে বলেছিল, ভারতের অমিত শাহ ফোন করেছিল। অমিত শাহর অফিস থেকে বলা হলো, তিনি কাউকে ফোন করেননি, যে আওয়াজ ছাড়া হয়েছিল, সেটা অমিত শাহর নয়। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি দেখে বিএনপি ও তাদের দোসরদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে দেখি জিএম কাদেরেরও মাথা খারাপ হয়ে যায়।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দেখেছি বিএনপি প্রতিদিন বিভিন্ন অ্যাম্বাসিতে ঘুরে বেড়াত। আর দেনদরবার করত, নির্বাচনটা যাতে বন্ধ করা যায়, কোনো লাভ হয় নাই। নির্বাচন হয়েছে, ৪২ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। যদি নির্বাচনের দিন কুয়াশা এবং প্রচন্ড ঠান্ডা না থাকত, তাহলে আরও বেশি মানুষ ভোট দিত। আর বিএনপি যদি নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা, মানুষের ওপর হামলা, ট্রেনের মধ্যে শিশুসন্তানসহ পুরো পরিবারকে জ্বালিয়ে হত্যা না করত তাহলে ভোটের হার ৬০ শতাংশের বেশি হতো। গত দুই-তিন বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে অনেক দেশে ৪০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। যদিও সেখানে নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের কোনো হুমকি ছিল না।’
বাংলাদেশে অত্যন্ত চমৎকার নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন যদি চমৎকার না হতো তাহলে পৃথিবীর ৮০টি দেশের সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধান আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতেন না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চিঠি লিখে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।” সর্বশেষ দুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ জন্য বিএনপির মাথা খারাপ। সম্ভবত সে জন্য বিএনপি নেতা ড. মঈন খান ইদানীং জ্যোতিষীর মতো কথা বলছেন।’
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান প্রমুখ।
