গ্রামের ৭০ নারী-পুরুষ মিলে রান্না করেছিলেন খিচুড়ি। সেই খাবার দল বেঁধে খেতে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ সেই আনন্দে বাগড়া। হাজির হলেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজ হোসেন। এরপর রান্না করা খাবারের মধ্যে ছিটিয়ে দেওয়া হয় আবর্জনা। অভিযোগ, এসিল্যান্ড ফিরোজ হোসেনের নির্দেশে তার গাড়ির চালক হজরত আলী খিচুড়ির মধ্যে ছাগলের বিষ্ঠাসহ ময়লা-আবর্জনা ছিটিয়ে দেন। গত রবিবার মধ্যরাতে আদমদীঘি উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে জনমনে।
জানা গেছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে আদমদীঘিতে আজ মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচনে পালনীয় আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন এসিল্যান্ড ফিরোজ হোসেন। রবিবার রাতে সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের ৭০ নারী-পুরুষ মিলে পিকনিকের আয়োজন করেন। সেখানে আনারস প্রতীকের সমর্থক একই এলাকার সাধারণ ভোটাররা একত্র হয়ে খিচুড়ি রান্না করছিলেন খাওয়ার জন্য। এসিল্যান্ড ফিরোজ হোসেন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় জনসমাগম দেখে গাড়ি থামিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তিনি তার সঙ্গে থাকা গাড়ির চালক হজরত আলীকে রাস্তার আবর্জনা উঠিয়ে খিচুড়ির পাতিলের ভেতর দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এসিল্যান্ডের নির্দেশ পেয়ে চালক সঙ্গে সঙ্গে রান্না করা খাবারের মধ্যে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা ছিটিয়ে দেন। তা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সেখানে উপস্থিত গ্রামের সব বাসিন্দা।
তারা বলেন, যদি কোনো অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন এসিল্যান্ড। কিন্তু রান্না করা খাবারের মধ্যে আবর্জনা ছিটিয়ে দেওয়া মোটেও উচিত হয়নি। এ ঘটনায় এসিল্যান্ডের বিচার দাবি করেন তারা।
আনারস প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা সেখানে পিকনিক করছিল বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু রেজা খান।
গ্রামটির বাসিন্দা মকলেছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক পোয়া করে চাল আর ৫০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে আমরা পিকনিকের আয়োজন করি। সেই মোতাবেক খিচুড়ি রান্নার শেষপর্যায়ে হঠাৎ এসিল্যান্ড এসে আমাদের জিজ্ঞেস করেন ভোটের কোনো প্রার্থী আমাদের খাওয়াচ্ছেন কি না। আমরা পিকনিকের চাঁদার তালিকা তাকে দেখানোর পরও তার নির্দেশে প্রথমে জ্বলন্ত চুলায় পানি ঢেলে দেন। এরপর খিচুড়ির মধ্যে ছাগলের বিষ্ঠাসহ ময়লা-আবর্জনা ছিটিয়ে দেন। একজন মানুষ এভাবে যে খাবার নষ্ট করতে পারেন তা আমি জীবনে দেখিনি। এটা খুব অমানবিক কাজ করেছেন তিনি (এসিল্যান্ড)।’
গ্রামটির বাসিন্দা আরেক নারী বলেন, ‘আমরা চাঁদা দিয়ে পিকনিকের আয়োজন করে রান্না করেছিলাম। কিন্তু খাবারের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা দেওয়ায় আর খাবার খেতে পারিনি। পরে সারা রাত না খেয়ে থাকতে হয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ড ফিরোজ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে এবং পরে কল করার কারণ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে আদমদীঘির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
