ব্যালট খোলার আগেই প্রকাশ্যে ভোট দিলেন ভোটার

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্যালট খোলার আগেই প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে উপজেলার কুটি অটল বিহারী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রটি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই ছায়েদুর রহমান স্বপনের।

জানা যায়, ওই ভোটকেন্দ্রের চার নম্বর নারী বুথে একজন ভোটার ঢুকে যান। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তখনও বান্ডিল থেকে ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ভোটারের হাতে দেননি। এর আগেই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার টেবিলে ব্যালট পেপারে সিল মেরে দেন ভোটার। এর চার মিনিট আগে পাশের পুরুষ বুথে খোদ এক প্রার্থীর এজেন্ট পোলিং অফিসারের টেবিলেই ব্যালট পেপারে সিল মেরেছেন।

নারী বুথে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলামের চশমা প্রতীকে এবং পুরুষ বুথে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাইদুর রহমান স্বপনের কাপ-পিরিচ প্রতীকে সিল মারা হয়েছে। কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী ছাইদুর রহমান স্বপনের বাড়ি কুটি গ্রামে। তিনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ফুফাতো ভাই।

ব্যালটে সিল মারা প্রসঙ্গে চার নম্বর বুথে দায়িত্বরত সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রাসেল উদ্দিন বলেন, আমি কিছু করতে পারিনি। খবর পেয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আমজাদ হোসেন ভোটকক্ষে গিয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্সকে কেন্দ্রে পাঠান। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা আক্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের খুঁজে পাননি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, ভোটাররা চলে গেছেন। পরে তিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করে নাম অনুযায়ী ভোটারকে ডেকে এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, এই কেন্দ্রের আটটি বুথে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ৮১৯। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বুথ কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত