আইইউবিএটির গবেষকদের সফলতা

একবার ধান রোপণ করলে ফসল হবে টানা ৫ বছর

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০৫:৫০ পিএম

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) কৃষি অনুষদের গবেষকগণ চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় বহুবর্ষজীবী ধানের গবেষণার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বহুবর্ষজীবী ধানের বিশেষত্ব হলো, এটি পাঁচ বছরে টানা দশটি ফসল ফলাতে পারে। অর্থাৎ প্রতিবছর দু'বার করে ফসল পাওয়া যাবে। 

আইইউবিএটি কলেজ অব এগ্রিকালচারাল সাইন্সেস অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারজানা সুলতানা এর তত্বাবধায়নে গবেষকগণ  ২০২০ সাল থেকে বহুবর্ষজীবী ধানের গবেষণার কাজ তাদের নিজস্ব গবেষণা কেন্দ্রে চালিয়ে যাচ্ছেন। 

আইইউবিএটির কৃষি অনুষদ ২০১৯ সালে এমটিএ এর মাধ্যমে  চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটি থেকে বহুবর্ষজীবী ধানের বীজ সংগ্রহ করেন।  গত শনিবার (১৮ মে ) গাজিপুরের রাজেন্দ্রপুরে এই বহুবর্ষজীবী ধান কাটার নবম পর্বের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার। আরো উপস্থিত ছিলেন, আইইউবিএটির  উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহ মিয়া,  কৃষি গবেষনা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ) এর পরিচালক  ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা,  ইরি  বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ব্রিডিং লিড, ইরি  ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এবং বিটিভি এর মাটি-ও-মানুষ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক  অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকসহ আইইউবিএটির শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা।   

অনুষ্ঠানে আগত সকল অথিতিদের বহুবর্ষজীবী ধানে জাতগুলোর পরিচয় করিয়ে দেন এবং  উৎপাদনের সাফল্য নিয়ে কথা বলেন  ড. ফারজানা সুলতানা। তিনি বলেন, বহুবর্ষজীবী ধান সামগ্রিকভাবে এটি একটি টেকসই ফসল হিসেবে গণ্য হবে। কেননা, প্রতিবার ধান চাষ করতে যে বীজ, পানি, সার, রাসায়নিক ও শ্রমের দরকার হয়- সেগুলোর খরচ বহুলাংশে কমিয়ে আনবে। পরিবেশগত দিক থেকেও এর ভূমিকা অনেক। কারণ, ধান উৎপাদনে যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হয়, তা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে, মাটির ক্ষয় রোধ  করবে এবং মাটির গুনগত মান বৃদ্ধি করবে।  

বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান, ইরি বাংলাদেশ এর  কান্ট্রি ব্রিডিং লিড, এবং সভায় উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা  বাংলাদেশে আইইউবিএটি এর এগ্রিকালচার রিসার্চ ফিল্ডে বহুবর্ষজীবী ধানেরঅসামান্য পারফরম্যান্স দেখে  প্রশংসা করেন এবং তারা এটির  সাফল্য  দেখতে চান। 

উল্ল্যেখ্য, আইইউবিএটি বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯১ সালে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে এটি। বর্তমানে উত্তরায় ২০ বিঘার নিজস্ব সবুজ ক্যাম্পাসে ৬টি অনুষদে ১৪টি প্রোগ্রাম চালু আছে এই প্রতিষ্ঠানে। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা  আট হাজার  শিক্ষার্থীর সাথে এশিয়া ও আফ্রিকার ১২টি দেশের শতাধিক শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত