গাজার হত্যাযজ্ঞে হঠাৎ গতি বাইডেনের সম্মতি

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৬:২২ এএম

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকায় অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আর তার আগের দিন নিহত হয় আরও ১০৬ জন। সব মিলিয়ে গত ৭ অক্টোবর থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এমন নিহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা ৩৫ হাজার ৬৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার শিশু এবং ৯ হাজার নারী রয়েছে। এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে ভূখণ্ডটিতে। এ ছাড়া এই সময়ে আহত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার মানুষের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

আলজাজিরা বলছে, আগের দুই দিনে যত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেই সংখ্যা সংঘাত শুরুর প্রথম দিকের সংখ্যার মতোই। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চাপও ইসরায়েলকে থামাতে পারছে না। এ অবস্থায় গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন হয়েছে। আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান নেতানিয়াহু আর হামাসের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন।

তবে তার এই পদক্ষেপ ভালোভাবে নেয়নি ইসরায়েল। এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের তুলনা করা হচ্ছে। এটা বাস্তবতার বিকৃতি।

হামাস নেতা সিনওয়ারের প্রতি ইঙ্গিত করে গতকাল হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ক্ষোভ জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি যাকে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তার সঙ্গে ‘গণতান্ত্রিক ইসরায়েলের’ তুলনা করা হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর এমন ক্ষোভ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কণ্ঠেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে। বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েল ও হামাস কোনোভাবেই সমতুল্য হতে পারে না। এ ধরনের আবেদনের সিদ্ধান্তকে ‘ভয়ংকর’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলছি, এ কৌঁসুলি যা-ই বোঝান না কেন, ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে কোনো তুলনা হতে পারে না। নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলায় আমরা সব সময় ইসরায়েলের পাশে আছি।

হোয়াইট হাউজে জুইশ আমেরিকান হেরিটেজ মান্থ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাইডেন গাজা যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। তার দাবি, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী জাতিগত হত্যা (জেনোসাইড) চালাচ্ছে না। বাইডেন বলেন, ‘গাজায় যা হচ্ছে, তা জাতিগত হত্যা নয়। আমরা তা মনে করি না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সিনওয়ার এবং হামাসের অন্য কসাইদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা ইসরায়েলের পাশে আছি। আমরা চাই হামাস পরাজিত হোক। আর তা করার জন্য আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করছি।

অবশ্য আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনে সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স। এক বিবৃতিতে দেশটি বলছে, আইসিসির স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন রয়েছে প্যারিসের। বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, এর স্বাধীনতা এবং সব পরিস্থিতিতে দায়মুক্তির বিরুদ্ধে লড়াইকে সমর্থন করে ফ্রান্স।

পশ্চিমা মিত্র, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালির মতো দেশের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে ফ্রান্সের এমন বিবৃতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে এসব দেশ সব সময় একই সুরে কথা বলে।

বিবৃতিতে গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছে ফ্রান্স। সতর্ক করে বলা হয়েছে, গাজায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা গ্রহণযোগ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত