সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এমপি আনারের মৃত্যুর খবরে এলাকায় কান্নার রোল

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০১:৪৫ পিএম

সাতদিন নিখোঁজ থাকার পর ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে  ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। বুধবার (২২ মে) কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেন এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ খবর আসার পর এমপির বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে আত্মীয়স্বজন, নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নার রোল পড়ে গেছে। তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

এমপি আনারের এ ধরনের মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আত্মীয়স্বজন, নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ভারতীয় ও বাংলাদেশের মিডিয়ার খবর প্রচারের পর সংসদীয় আসনের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা এমপি আনার হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান। 

পুলিশ সূত্র জানায়, ভারতে গিয়ে ১২ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনোয়ারুল কলকাতায় তার পূর্বপরিচিত বন্ধুসম্পর্কীয় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ওঠেন। গোপালের সঙ্গে তার ২৫ বছরের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৩ মে বেলা ২টার (কলকাতার স্থানীয় সময়) দিকে আনোয়ারুল চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে গোপাল বিশ্বাসের বাসা থেকে বের হন। তখন গোপালকে বলে যান, তিনি সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আসবেন। এরপর আর বাসায় না ফেরার কারণে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় গোপাল বিশ্বাস একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

গোপাল বিশ্বাস জিডিতে উল্লেখ করেন, ‘আনোয়ারুল আজীমের সঙ্গে তার ২৫ বছর ধরে পারিবারিক সম্পর্ক। ১২ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনোয়ারুল আজীম কলকাতার মণ্ডলপাড়া লেনে তার (গোপাল বিশ্বাস) বাড়িতে আসেন। তিনি কলকাতায় আসেন ডাক্তার দেখাতে। পরদিন (১৩ মে) স্থানীয় সময় (কলকাতা) বেলা পৌনে ২টার দিকে ডাক্তার দেখানোর জন্য গোপাল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বের হন আনোয়ারুল আজিম। যাওয়ার সময় তিনি (আনোয়ারুল) বলে যান, দুপুরে খাবেন না। সন্ধ্যায় ফিরে আসবেন। পরে তিনি কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে এসে নিজেই গাড়ি ডেকে চলে যান।’

জিডির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজীম সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ফেরেননি। আনোয়ারুল আজীমের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গোপালকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, বিশেষ কাজে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ফোন করে গোপাল বিশ্বাসকে জানাবেন, গোপাল বিশ্বাসের ফোন করার দরকার নেই। পরে ১৫ মে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২১ মিনিটে আনোয়ারুল আজীমের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আরেকটি বার্তা আসে। তাতে আনোয়ারুল আজিমের দিল্লি পৌঁছানোর কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘আমার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন, ফোন করার দরকার নেই।’ আনোয়ারুল আজীমের নম্বর থেকে একই বার্তা বাংলাদেশে তার বাড়ির লোকজন এবং ব্যক্তিগত সহকারীকে পাঠানো হয়।

কলকাতা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আনোয়ারুল আজীম খুন হয়েছেন কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্সের একটি ফ্ল্যাটে।

 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত