রাজস্বের আত্মসাতের সাড়ে ৫৩ লাখ আদায়ে গড়িমসি!

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০২:২৫ এএম

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) রাজস্ব আদায়ের ৫৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন লাইসেন্স শাখার চার পরিদর্শক। সাত বছর আগে অডিট ও হিসাব নিরীক্ষার প্রতিবেদনে প্রমাণিত হওয়ায় টাকা আদায়সহ তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়েও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

তবে সম্প্রতি দুদক বিষয়টি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নামলে করপোরেশনের উদ্যোগে গঠিত হয় নতুন তদন্ত কমিটি। সেই কমিটির সুপারিশে চলতি বছর ১০ জানুয়ারি চিঠির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ হিসাব বিভাগে জমা দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু পরিশোধে চলছে চরম গড়িমসি। দুই থেকে তিন দফায় ২০ মে পর্যন্ত সময় নিয়েও জমা দেন মাত্র ২১ লাখ টাকা। এখনো বাকি রয়েছে ৩২ লাখ ৬২ হাজার ৯৪০ টাকা।

এ ব্যাপারে  খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজস্ব আত্মসাত প্রমাণিত হওয়ার পরও তা আদায় করতে না পারা কর্মকর্তাদের দুর্বলতা। জনগণের এই টাকা আদায়ে তাদের আরও কঠোর হওয়া উচিত। সেইসঙ্গে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ট্রেড লাইসেন্স শাখা ক্যাশ শাখা থেকে ২০৪টি এম বই (রসিদ বই) গ্রহণ করে। ২০৪টি বইয়ের মধ্যে ১৯৩টি এম বই অডিট টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ১১টি বই জমা দিতে পারেনি লাইসেন্স শাখা। বিষয়টি তদন্তে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়। দুটি কমিটি ওই বছর ১৪ ডিসেম্বর ও ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করে। দাখিলকৃত প্রতিবেদনের অন্যতম সুপারিশ ছিল ১১টি এম বই করপোরেশনের হিসাব বিভাগের অডিট শাখায় জমা দিতে হবে। অথচ ১১টি এম বই জমা প্রদানে সাড়া মেলেনি।

অন্যদিকে, অডিট টিমের কাছে সরবরাহকৃত ১৯৩টি বই যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৯৩টি বইয়ে ৪ কোটি ৬২ লাখ ৫৩ হাজার ৮১ টাকা রাজস্ব আদায় করে লাইসেন্স শাখা। তবে ওই অর্থবছরে ক্যাশ শাখায় জমা করেছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ২৭ হাজার ৯২৩ টাকা মাত্র। অর্থাৎ ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫৮ টাকা করপোরেশনের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

সূত্রটি জানায়, গত সাত বছর ধরে বিষয়টি ঝুলে ছিল। তবে গত বছর ১৩ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট শাখার রেকর্ডপত্র চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর ফের বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় করপোরেশন। গঠিত হয় নতুন তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে আত্মসাৎকৃত টাকা ও ১১টি বইয়ের আওতায় মোট ৫৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৪০ টাকা ঘাটতি নিরূপণ করা হয়। সেই সঙ্গে চার পরিদর্শকের কাছ থেকে আদায়ে সুপারিশ করা হয়। সুপারিশের আলোকে চলতি বছর ১০ জানুয়ারি তাদের পৃথক চিঠির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ হিসাব বিভাগে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে লাইসেন্স পরিদর্শক (বাণিজ্য) মনিরুল ইসলামকে ১৯ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ টাকা, কাজী মনজুরল আলমকে ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮০ টাকা, শেখ শাহেদ হাসানকে ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮০ টাকা এবং মো. হাবিবুর রহমানকে ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৬২০ টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।

কিন্তু ২০ মে পর্যন্ত সময় নিয়েও জমা দিয়েছেন মাত্র ২১ লাখ টাকা। এরমধ্যে মো. হাবিবুর রহমান পুরো টাকাই জমা দেন। তবে মনিরুল ইসলাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কাজী মনজুরল আলম ৩ লাখ টাকা, শেখ শাহেদ হাসান ২ লাখ ৫০ হাজার জমা দিয়েছেন। বাকি রয়েছে এখনো ৩২ লাখ ৬২ হাজার ৯৪০ টাকা।

জানতে চাইলে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সানজিদা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের সব টাকা জমা পড়েনি। ফের সময় চেয়েছে কি না সেটিও আমার নজরে আসেনি। তবে সর্বশেষ অবস্থা মেয়রকে জানানো হবে। মেয়রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত