তামাকপণ্য থেকে ১০ হাজার কোটি রাজস্ব আয় সম্ভব

ভার্চুয়াল বৈঠকে বক্তারা

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০৬:৩৭ এএম

তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বাড়ালে বছরে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, চিনি, আলু, আটাসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ৪০ শতাংশ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে তামাকপণ্যের দাম বেড়েছে মাত্র ৬ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। ত্রুটিপূর্ণ কর ও মূল্য পদক্ষেপই এজন্য দায়ী।

গতকাল বুধবার প্রজ্ঞা ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে শক্তিশালী তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় বক্তারা জানান, বর্তমান তামাক করকাঠামো তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে তেমন কোনো অবদান রাখতে পারছে না। তারা আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কার্যকর তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

বৈঠকে জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে শক্তিশালী তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই। আশা করি এবারের প্রস্তাবগুলো সরকার আমলে নেবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, নিম্ন স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা নির্ধারণ করে কমপক্ষে ৬৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে হবে। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং তরুণরা সিগারেট ব্যবহারে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত হবে।

বৈঠকে বক্তারা জানান, প্রস্তাবিত তামাক কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৫ লাখ তরুণসহ ১১ লাখের অধিক মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

আলোচনা সভায় ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের বাংলাদেশ লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (এনসিডি) ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী প্রমুখ অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত