ডামি প্রার্থীরা শুধু ফেসবুকে

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০৬:৫১ এএম

আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাতে কোনো প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হতে না পারে সে জন্য দলের সমর্থিত প্রার্থীর ইচ্ছা অনুযায়ী নিজেদের বলয়ের কাউকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছের ফেনীর প্রার্থীরা। যাকে ফেনীর ভাষায় বলা হয় ‘ডামি প্রার্থী।’ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত মূল প্রার্থীর বিপরীতে নির্বাচন করছেন এসব ডামি প্রার্থী। আর এসব ডামি প্রার্থীর কারোই প্রচার-প্রচারণার মাইকিং, ব্যানার কিংবা ফেস্টুন লক্ষ করা যায়নি।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ফেনী সদর, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতীক পেয়ে প্রচারণা করলেও অন্য প্রার্থীদের মাঠে তেমন দেখা যাচ্ছে না। উপজেলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতীক চেয়ারম্যানদের দোয়াত-কলম, ভাইস চেয়ারম্যানদের টিউবওয়েল ও মহিলা চেয়ারম্যানরা প্রজাপতি মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, উৎসবমুখর করতে ও নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে মাঠে কাজ করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। তাদের গণসংযোগ, মাইকিং, পোস্টার ও ব্যানারে শহর থেকে গ্রামে দৃশ্যমান রয়েছে। এর বিপরীতে অন্য যারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের কারোই গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণার মাইকিং, ব্যানার, ফেস্টুন লক্ষ্য করা যায়নি। কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রতীক সংবলিত ফেস্টুন ছাপিয়ে প্রচার করছেন।

ফেনী শহরের স্থায়ী বাসিন্দা মাস্টার ওয়াজি উল্লাহ বলেন, দলীয় প্রার্থীদের চিনলেও অন্য কাউকে চিনি না। অন্যদের নির্বাচনী কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

ফেনী পৌরসভার জিরো পয়েন্ট এলাকায় চায়ের দোকানে বসে আলাপ করছিলেন ছয়-সাতজন। তাদের মধ্যে জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আগের সেই ভোট আর নাই। আগে ভোটের এক-দুই মাস আগে থেকে খালি ভোট লিয়েই আলোচনা হতো। এখন তো এমপি নির্বাচন লিয়েই মানুষের আগ্রহ নাই। যে দুজন প্রার্থী হছে তাদের মধ্যে একজনকে কেউ চিনে না।’

সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়ার বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, ‘এখন আর নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ পাই না। এবারের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছে, সবাই আওয়ামী লীগের। যে-ই জিতুক, আওয়ামী লীগেরই একজন জিতবে।’

দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বিজন ভৌমিক বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকটে এখনো প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করিনি। তবে নির্বাচনের কয়েক দিন আগে মাঠে নামব।’ ডামি প্রার্থী কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অস্বীকার করে তিনি নিজেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পরিচয় দেন।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ফেনীর সদর, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের ভোট আগামী ২৯ মে।

ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, স্থানীয় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। প্রত্যেক ভোটারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন গ্রামে ওয়ার্ডে মিটিং করে বেড়াচ্ছি। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, চলতি ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ফেনী জেলায় একজন চেয়ারম্যানসহ সাতজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত