উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাব বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের উপকূলেও পড়তে শুরু করেছে। যার ফলে প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কারণে কলকাতা বিমানবন্দরে ২১ ঘণ্টা বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২৫ মে) কলকাতার নেতাজী সুভাস চন্দ্র বোস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়। খবর আনন্দবাজার।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আজ রোববার (২৬ মে) বেলা ১২টা থেকে আগামীকাল সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান উঠানামা বন্ধ থাকবে।
আনন্দবাজার জানায়, কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাব বিবেচনা করে জরুরি বৈঠকে বসে বিমানবন্দরের পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রোববার ২৬ মে দুপুর ১২টা থেকে সোমবার ২৭ মে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিমান ওঠানামা বন্ধ থাকবে। কারণ ওই সময় কলকাতায় দমকা হাওয়া এবং প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২১ ঘণ্টা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছে ৩৯৪টি ফ্লাইট। এতে করে ৬৩ হাজার যাত্রীর চলাচল প্রভাবিত হবে।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, রোববার রাতে বাংলাদেশের খেপুপাড়া এবং পশ্চিমঙ্গের সাগরদ্বীপের মাঝামাঝি অঞ্চল অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ওই সময় ঝড়টির গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। আর ঝড়ো বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। রবিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে জারি করা হয়েছে রেড এলার্ট। কলকাতা-সহ এই ছয় জেলাতেই অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলছে আবহাওয়া দপ্তর।
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তুমুল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য কলকাতা বন্দরে অপারেশন বন্ধ থাকবে।
এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে দুর্যোগের আশঙ্কায় পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে হাওড়া ও শিয়ালদহ লাইনে একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রিমালের প্রভাবে শিয়ালদহ দক্ষিণ বিভাগ এবং বারাসত-হাসনাবাদ বিভাগে আজ রাত ১১টা থেকে আগামীকাল সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত, অর্থাৎ ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে ট্রেন পরিষেবা।
কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা