সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে রিমাল

  • সময় নিবে তিন থেকে চার ঘণ্টা
আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৬:১৯ পিএম

ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে উপকূলে আঘাত করতে পারে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। রবিবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পশ্চিম বঙ্গের সাগর দ্বীপ ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার উপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে ঝড়টি। আর তা অতিক্রম করতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৩ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পরবর্তী তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম করবে। ঘূর্ণিঝড়টি আজ বিকাল তিনটায় চট্টগ্রাম থেকে ৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। 

এটি আরো ঘনীভূত হয়ে সোজা উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপকূল অতিক্রমের সময় স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। আর এতে ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হতে পারে সেই শঙ্কায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এছাড়া খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী এবং তৎসংলগ্ন দ্বীপ ও চরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। অপরদিকে চাঁদপুর, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপ ও চরসমূহকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় বিশেষ বুলেটিনে। জোয়ারের পাশাপাশি ভারী বর্ষণের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকায় পাহাড় ধসের শঙ্কাও করা হয়েছে।

এদিকে ঝড়টি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে উঠার পর বরিশালের পূর্ব পাশ দিয়ে মেঘনা নদী অতিক্রম করবে। পরবর্তীতে চাঁদপুর ও কুমিল্লার হোমনার পাশ দিয়ে বাঞ্চারামপুরের কাছে এসে সোজা ডান দিকে (পূর্ব দিকে) টার্ন নিয়ে আখাউড়া হয়ে ভারতের আগরতলায় গিয়ে পৌছাবে।  

উল্লেখ্য, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি গতকাল সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে নিম্নচাপে এবং বৃহস্পতিবার লঘুচাপে পরিণত হয়। বছরের এ সময়ে (এপ্রিল ও মে) স্বাভাবিকভাবেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে। চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসেও বঙ্গোপসাগরে একাধিক নিম্নচাপ ও তাদের মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে বলা হয়েছিল। মৌসুমী বায়ু প্রবেশের আগে সাগরে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে সাধারণত। আর এরই ধারবাহিকতায় সাগরে ঝড়ের সৃষ্টি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত