দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস

মে মাসের শেষার্ধে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

  • মাস জুড়ে দফায় দফায় তাপপ্রবাহ ও কালবৈশাখীর শঙ্কা
  • বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার থেকে হতে পারে ঘূর্ণিঝড়
  • মাসের প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা নেই
আপডেট : ০৩ মে ২০২৫, ০১:২৬ এএম

ঝড়ো হাওয়া কিংবা কালবৈশাখী সাধারণত মে মাসে বেশি হয় বাংলাদেশে। এ মাস আবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ মাস। এ মাসে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতাও আছে। দুই বছর ধরে দুটি বড় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে মে মাসে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস, চলতি মে মাসেও একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে কয়েক দফায় তাপপ্রবাহ। এর মধ্যে দু-একটি তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার কালবৈশাখীও আঘাত হানতে পারে কয়েকবার। ঘূর্ণিঝড় হলে তা মাসের শেষার্ধে হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি মাসের শুরুতে আবহাওয়া অধিদপ্তর মাসব্যাপী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়। এ মাসের পূর্বাভাসটি দেওয়া হয়েছে গত বুধবার। এ মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তাদের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। আবার এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়েরও রূপ নিতে পারে।

কবে হতে পারে সেই ঘূর্ণিঝড়— প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, অন্তত মাসের প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাবনা নেই, তা বলা যায়। তবে নিম্নচাপ যে হবে, তা নিশ্চিত। সেটা মাসের শেষের দিকে হতে পারে। এই নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা আছে, তবে এটি আদৌ হবে কি না, এখনো নিশ্চিত করে বলার সময় আসেনি।

গত বছরের ২৬ মে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে। এতে উপকূলের ১৯টি জেলার ৪৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৩ সালের ১৪ মে ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশে আঘাত হানে।

চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি মাঝারি থেকে তীব্র কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। আর তিন থেকে পাঁচ দিন হালকা কালবৈশাখী হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। 
মে মাস বাংলাদেশের দ্বিতীয় উষ্ণ মাস। এ মাসে গড় তাপমাত্রা থাকে ৩২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে এক থেকে তিনটি মৃদু তাপপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। এরপর ৪২ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

এ মাসে নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টির জন্য দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে সময় বিশেষে পানি বাড়তে পারে।

এদিকে পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশিদিন বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়েছে সিলেট বিভাগে। মে মাসে এই বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ২২ থেকে ২৫ দিন বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে এ মাসে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে খুলনা বিভাগে। এ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ১৪ থেকে ১৬ দিন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত