গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক গৃহবধূকে মাথার চুল কেটে ও হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধূর সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার নামাশুলাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার রোমান হোসেনের (৩৮) বাড়ি উপজেলার নামাশুলাই এলাকায়।
এলাকাবাসী, নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার আতোয়ার দেওয়ানের মেয়ে আফিয়া আক্তারের সঙ্গে রোমানের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে এক বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তাদের ওরিয়ান আক্তার নামে ৯ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর আফিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে হয় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শিরিসগুরি এলাকার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। ওরিয়ান তার বাবা রোমানের কাছে থেকে একটি মাদ্রাসার লেখাপড়া করে। ওরিয়ানের মাদ্রাসার খরচ বাবদ প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে দিতেন তার মা আফিয়া।
গতকাল দুপুরে আফিয়া মেয়ের মাদ্রাসার খরচের টাকা দিতে নামাশুলাই এলাকায় সাবেক স্বামী রোমানের বাড়িতে যান। এ সময় রোমান ক্ষিপ্ত হয়ে আফিয়াকে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন। একপর্যায়ে ব্লেড দিয়ে আফিয়ার মাথার চুল কেটে দেন রোমান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে আফিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে আফিয়ার দ্বিতীয় স্বামী আনোয়ার হোসেন ৯৯৯-এ ফোন দিলে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে আফিয়াকে উদ্ধার ও তার সাবেক স্বামী রোমানকে আটক করে। পরে আফিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আফিয়া বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন।
আফিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি আমার মেয়ে ওরিয়ানের মাদ্রাসার টাকা দিতে গেলে সাবেক স্বামী রোমান ওড়না দিয়ে আমার হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং ব্লেড দিয়ে আমার মাথার চুল কেটে দেয়। আমি এর বিচার চাই।’ কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম জানান, ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার সাবেক স্বামী রোমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
