ঘুমে ডিস্টার্ব হওয়ায় ভাড়াটিয়ার হাতে বাড়িওয়ালা খুন

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০৬:৪২ এএম

ঘুমে ডিস্টার্ব হওয়ায় গত শুক্রবার রাতে তেজগাঁওয়ে ছুরিকাঘাতে ওলিউল্লাহ রনি (২৯) নামে এক বাড়িওয়ালাকে হত্যা করেছে তারই ভাড়াটিয়া মোরশেদ আহম্মেদ (৩৭)। এ ঘটনায় জড়িত মোরশেদকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার চরভাটিয়ালি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে তেজগাঁও থানা পুলিশ। গত শনিবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃত মোরশেদ রনি নামে এক বাড়িওয়ালা হত্যা মামলার আসামি। তার দাবি, তাকে ঘুমাতে সমস্যা করেছিলেন বাড়ির মালিক। ফলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

এ বিষয়ে গতকাল রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচএম আজিমুল হক জানান, মোরশেদ যে বাসায় ভাড়া থাকেন রনি সেই বাসার মালিক। রনি ও তার বন্ধুদের যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারতেন না মোরশেদ। তাকে যে কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়, সে কক্ষেই রনি ও তার বন্ধুরা তাস খেলাসহ মাদক সেবন করতেন। তাদের এ খেলার জন্য মোরশেদকে প্রায়ই দেরিতে ঘুমাতে হতো। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার বাগ্বিতণ্ডাও হয়।

মোরশেদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি জানান, গত ২৫ মে রাতেও সেই কক্ষে রনি তার বন্ধু মশিউর, বায়েজিদুল ইসলাম, একিন ও অমিতকে নিয়ে তাস খেলছিলেন। পরে মোরশেদ আসার পর তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোরশেদ ছুরি দিয়ে রনিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এ সময় বন্ধুরা চিৎকার করলে রনির ভাই রফিক ছুটে আসেন। তিনি বাধা দিতে চাইলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান মোরশেদ। পরে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরপরই জামালপুর পালিয়ে যান মোরশেদ। পরে পুলিশ কৃষকের ছদ্মবেশে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জানান, মোরশেদ ঢাকায় থেকে পাঠাও চালাতেন। তিনি রনির বাসায় ভাড়া থাকতেন। সারা দিন পরিশ্রম করে ফিরে বাসায় ঘুমাতে পারতেন না। ফলে ক্ষুব্ধ ছিলেন রনির প্রতি। এটা নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে তর্ক হতো। শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িওয়ালাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত