প্রবীণ কৃষকদের ভরসা দিচ্ছেন তরুণ বিজ্ঞানী

আপডেট : ২৯ মে ২০২৪, ০৬:৩৩ এএম

আজাতা কামারা, আইভরি কোস্টের ২৭ বছরের তরুণী। তবে স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন বড় বিজ্ঞানী। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও টেকসই কৃষির বিষয়ে পিএইচডি করছেন। জৈব কীটনাশক উৎপাদন করে অনেকের দুশ্চিন্তা দূর করেছেন। ফাইটোপ্যাথলজিস্ট হিসেবে তিনি উদ্ভিদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাও করেন। তার উদ্ভাবিত বিষয়গুলো চিন্তা কমাচ্ছে প্রবীণ কৃষক, চাষিদের।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষির বিষয়ে কামারার বরাবর আগ্রহ ছিল। কারণ তার বাবার একটা খামার ছিল। শিশু বয়স থেকেই তিনি বাবার সঙ্গে ক্ষেতের মধ্যে ঘুরতেন। সে সময়ে তিনি ভেবে দেখলেন ইয়াম নিয়ে চর্চা করলে কেমন হয়! কারণ বাসায় তারা সবসময় ইয়াম পেতেন কিন্তু একটি বিষয় লক্ষ করেছিলেন যে, ইয়াম বেশি দিন তাজা থাকছে না। পচন ধরলে মানুষ শুধু পচা অংশটাই কেটে বাদ দেয়। পুরোটাই ফেলে দেওয়া হয় না। কারণ সে ক্ষেত্রে বাকি অংশটি বিক্রি করা বা খাওয়া যায়।

বিষয়টি তাকে ভাবায়। পরে কামারা পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ছত্রাক শনাক্ত করেছেন। তার ভিত্তিতে তৈরি করেছেন সেগুলো প্রতিরোধের জৈব উপায়। কামারা যে জৈব কীটনাশক তৈরি করেছেন, সেটা শুধু এসেনশিয়াল অয়েল, উদ্ভিদের নির্যাস ও পানি দিয়ে তৈরি। আর কিছুই নেই। তবে যেসব নারী এখানে ইয়াম বিক্রি করেন, তারা প্রথমে এমন কিছুর অস্তিত্বের কথা জেনে খুব অবাক হয়েছিলেন। সেটা সত্যি কাজ করবে কি না, সে বিষয়ে তাদের মনে সংশয় ছিল। তাদের মনে দুশ্চিন্তা ছিল। অবশ্য সেই কীটনাশক ব্যবহার করে সত্যি সুফল পেয়ে তারা খুবই খুশি হয়েছিলেন। আরও বেশি দিন স্টকের ইয়াম তাজা রাখার এ বিকল্প পেয়ে তাদের সুবিধা হয়েছিল।

কামারা ২০২২ সালে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে লোরেয়াল ইউনেসকো পুরস্কার পেয়েছেন। তাকে নিয়ে পরে নানা ধরনের সংবাদ হয়েছে। আজাতা কামারা নিজেকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এত মাতামাতি আশা করেননি। তবে তার গল্পটি আফ্রিকার অন্য নারীদের জন্য ভালো অনুপ্রেরণা হবে, সেটি ভেবেও স্বস্তি পান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত