হজ ফ্লাইট চালুর ১৯ দিনেও টিকিট হয়নি ৬৬২ জন হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তির। দুই হজ এজেন্সি ও বেসরকারি প্রিমিয়ার ব্যাংক মহাখালী শাখার গাফিলতিতে তাদের হজযাত্রায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির মহাখালী শাখায় এসব হজযাত্রীর ১৩ কোটি টাকা আটকে আছে। দুই লিড হজ এজেন্সির নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে এসব টাকা স্থানান্তর করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত করা হয়নি।
এদিকে এসব হজযাত্রীর টাকা দ্রুত ছাড় করাতে প্রিমিয়ার ব্যাংককে ২ দফায় চিঠি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তবুও টাকা স্থানান্তর করেনি ব্যাংকটি। গত রবিবার ফের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টাকা ছাড় করেনি ব্যাংকটি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মনজুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দুই পৃথক চিঠি প্রিমিয়ার ব্যাংকের মহাখালী শাখায় পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, আকবর হজ গ্রুপ নামের একটি এজেন্সি এ বছর ৪২৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পাঠানোর দায়িত্ব নেয়। কিন্তু পরে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এসব হজযাত্রীকে শিকদার এয়ার ট্রাভেলস নামের আরেকটি হজ এজেন্সিতে স্থানান্তর করে। এই এজেন্সির মাধ্যমে তাদের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা হয়। হজযাত্রী প্রতি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা সংগ্রহ করে মোট ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের মহাখালী শাখায় একটি অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। একপর্যায়ে শিকদার এয়ার ট্রাভেলস এসব হজযাত্রীর দায়িত্ব দেয় আল রিসান ট্রাভেল নামের আরেকটি এজেন্সিকে। এই এজেন্সির ব্যাংক হিসাব ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় এসব হজযাত্রীর টাকা প্রিমিয়ার ব্যাংক মহাখালী শাখায় জমা করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও তারা টাকা জমা করেনি। এতে বিমানের টিকিট করতে পারছে না এজেন্সটি। পরে বিষয়টি সমাধানে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে আল রিসান ট্রাভেল এজেন্সি। পরে এই টাকা ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় স্থানান্তর করতে প্রিমিয়ার ব্যাংককে দুই দফায় চিঠি দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। ২৭ মের মধ্যে টাকা স্থানান্তর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে প্রায় একই রকমের ঘটনা ঘটেছে নর্থ বেঙ্গল হজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামের একটি এজেন্সির সঙ্গে। ২৫৪ জন হজযাত্রীকে প্রথমে সৌদি আরবে পাঠানোর দায়িত্ব নেয় মাজিদ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি এজেন্সি। তারা এসব হজযাত্রীর প্রাথমিক নিবন্ধন করায়। সেই সঙ্গে বিমানের টিকিট বাবদ ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা করে মোট ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের মহাখালী শাখায় রাখা হয়।
একপর্যায়ে মাজিদ ট্রাভেলস জানায়, তারা এসব হজযাত্রীকে সৌদি আরবে নিতে পারবে না। নর্থ বেঙ্গল হজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসে ২৫৪ হজযাত্রীকে স্থানান্তর করে তারা। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও বিমানের টিকিটের টাকা স্থানান্তর করেনি প্রিমিয়ার ব্যাংক। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রিমিয়ার ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সোমবারের মধ্যে নর্থ বেঙ্গল হজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের রংপুর শাখায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করতে হবে। কিন্তু এ টাকাও স্থানান্তর করেনি প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে নর্থ বেঙ্গল হজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এবার হজ কার্যক্রম করছি না। এই দায়িত্ব হাসান নামের একজন পালন করছে। তিনি সব বলতে পারবেন।’ পরে হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলাম বলেন, ‘এই হাজিদের নিয়ে এজেন্সির জটিলতা ছিল, সেটা সমাধান করা হয়েছে। যেহেতু টাকাটা হাজিদের, তাই টাকা ব্যাংকের দিতে সমস্যা কোথায়। এখানে ধর্ম মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নিয়ে এ টাকা ছাড় করার জন্য চিঠি দিয়েছে। তারপরও ব্যাংকটি টাকা ছাড় করছে না।’
তিনি আরও জানান, ব্যাংকের এই গাফিলতির কারণে যদি হাজিদের হজযাত্রায় বিঘœ ঘটে বা যেতে না পারেন, তার দায়দায়িত্ব এই ব্যাংককে নিতে হবে।
