ল্যাম্পি স্কিনে দুই মাসে শতাধিক গরুর মৃত্যু

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ০৬:৫২ এএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে খামারিরা দিশেহারা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এই রোগের চিকিৎসা না থাকায় ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত দুই মাসে পার্বতীপুরে শতাধিক গরু মারা গেছে। সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এ রোগ সম্পর্কে নেই কোনো মাঠ পর্যায়ে গণ-সচেতনতামূলক কোনো সভা-সমাবেশ।

তবে, খামারিদের দাবি, পার্বতীপুর উপজেলার পল্লীতে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) বা চর্মরোগে অন্তত সহস্রাধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বেড়ে চলায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত গরুর  কোনো চিকিৎসা না থাকলেও দুই শতাধিক পল্লী প্রাণী চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ওষুধ ও প্যারাসিটামল চিকিৎসা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পল্লী প্রাণী চিকিৎসক জানান, ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসের চিকিৎসা না থাকায় রোগ বুঝে তারা ওষুধ দিয়ে এই রোগ নিরাময়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, চিকিৎসায় কিছু গরু ভালো হচ্ছে। জটিলভাবে আক্রান্তগুলো মারা যাচ্ছে।  বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছোট বাছুর বা অল্প বয়সের গরু বেশি মারা যাচ্ছে। এসব ভাইরাস আক্রান্ত গরু সস্তায় কিনে নিয়ে স্থানীয় কসাইরা হাটবাজারে জবাই করছেন। ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। মারা যাওয়া গরুগুলো তিলাই নদী কিংবা খোলা আকাশের নিচে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, অফিশিয়াল কাগজে-কলমে এখন পর্যন্ত পার্বতীপুরে ল্যাম্পি স্কিন রোগে গরু আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬৫। এ পর্যন্ত মারা  গেছে ১৩টি গরু।

জানা গেছে, ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর গায়ে ছোট ছোট গুটি গুটি উঠে ও ফুলে যায়, পা ফুলে যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা হয়। এই রোগ মানুষের মধ্যে না ছড়ালেও গরুর ক্ষেত্রে এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। সাধারণত বর্ষার শেষে শরতের শুরুতে অথবা বসন্তের শুরুতে মশা-মাছির বংশবিস্তারের সময় রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত গরু-বাছুর প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় ও এক পর্যায়ে খাওয়া বন্ধ করে দেয়। জ্বরের সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে লালা বের হয়, পা ফুলে যায়। আক্রান্ত গরুর শরীরের বিভিন্ন জায়গার চামড়া পি- আকৃতি ধারণ করে, লোম উঠে যায় এবং ক্ষত সৃষ্টি হয়। গরু ঝিম মেরে থাকে ও কাঁপতে শুরু করে। কিডনির ওপর প্রভাব পড়ার ফলে গরু মারাও যায়।

চ-িপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার শাহিওয়াল বাছুর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এগুলোর চিকিৎসার পেছনে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তার পরও বাছুরটা মারা গেছে। গরুগুলো নিয়ে আমরা সবাই খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের ডা. মো. হামদুল্লাহ জানান, রোগাক্রান্ত অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়া মোটেই ঠিক হবে না।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান বলেন,  রোগ প্রতিরোধের জন্য অফিসে কোনো ওষুধ নেই। ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসটি কয়েক মাস আগে দেখা গিয়েছিল। এখন সামনে কোরবানির ঈদের আগে এর ব্যাপকতা বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত