বাংলা একাডেমির ডিজি কবি নূরুল হুদার অপসারণ দাবি

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ০৮:৩৮ পিএম

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার অপসারণ চেয়েছেন বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক নূরুন নবী ভোলা। কবি নূরুল হুদা কবিতার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমানসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত দাবি করেন তিনি।

গতকাল বুধবার (৩০ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নূরুল হুদার অপসারণ চান নূরুন নবী ভোলা। এ সময় পাঠাগারের সাধারণ পাঠকেরাও নূরুল হুদাকে অপসারণের দাবি জানান। 

নূরুন নবী ভোলা বলেন, আওয়ামী আদর্শ ও চেতনাবিরোধী, বিএনপি-জামায়াতের আশীর্বাদপুষ্ট ও জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক সাব্যস্তকারী মুহাম্মদ নুরুল হুদার মতো ব্যক্তি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে থাকা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার, যা বাংলাদেশের সুস্থ শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের জন্য অশনিসংকেত।

 সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক নূরুন নবী ভোলা

নূরুন নবী ভোলা আরও বলেন, তিনি (নূরুল হুদা) কার পক্ষে-বিপক্ষে লিখলেন না সেটা বিষয় নয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে লিখেছেন। সারা বিশ্ব জানে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ তিনি লিখেছেন, মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। নূরুল হুদা গিরগিটির মতো রং বদলান। আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী, বিএনপির সময় বিএনপি।

দুর্নীতির অভিযোগ করে নূরুন নবী ভোলা বলেন, বাংলা একাডেমিতে চাকরির ক্ষেত্রে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে, বই বের করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি নানা ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।

পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহিদা বেগম বলেন, নূরুল হুদাকে আমি শৈশব থেকে চিনি। তিনি আগে বাসাবোয় ছিলেন, আমার বাবার বাড়িও সেখানে। তিনি নিজেকে জাতিসত্তার কবি বলেন। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি যে কবিতা লেখেন, তা বুঝতে তো ডিকশনারি ঘাঁটতে হয়। তখন তিনি বলেছিলেন, এই কবিতা কবিদের জন্য, তোমার জন্য না।

‘কবি নূরুল হুদা বেগম খালেদা জিয়াকে মা ডাকতেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে তিনি প্রায়ই দেখা এবং যোগাযোগ করতেন। এসব করে তিনি নজরুল ইনস্টিটিউটের পরিচালক হয়ে গেলেন। সেখানে তিনি এমন অপরাধ নেই যা করেননি। এখান-ওখান থেকে নিয়ে অনেকগুলো বই বের করেছেন।

সাহিদা বেগম বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি (নূরুল হুদা) নিজের চেহারা বদলে ফেলেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে কবিতা লিখেছেন। কিন্তু এখন নিজেকে সবচেয়ে বড় মুজিবসেনা হিসেবে জাহির করেন।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নূরুল হুদার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত