চাল আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠনের পর কয়েকজন জেলেকে ডেকে এনে চাল বিতরণ করেছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউপির চেয়ারম্যান কাজী আবদুল মজিদ। সম্প্রতি চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোকদের দিয়ে জেলেদের ডেকে এনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজির এক বস্তা করে চাল বিতরণ করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে চেয়ারম্যানের চাল আত্মসাৎ নিয়ে গত ১১ মে দেশ রূপান্তরে ‘জেলেদের চাল ইউপি চেয়ারম্যানের পেটে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে অভিযোগের তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
জানা যায়, চাল আত্মসাতের অভিযোগ ধামাচাপা দিতে গত কয়েক দিনে চালা, বাবুপুর, দিয়াবাড়ী ও কল্যাণপুর গ্রামের ১৫ থেকে ২০ জন জেলেকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছেন চেয়ারম্যান। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন ইউপি সদস্য বলেছেন, দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দ ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল থেকে জেলেদের ৩০ কেজি করে চাল দিচ্ছেন চেয়ারম্যান।
চালা গ্রামের এক জেলের নাম এ বছরে বিতরণকৃত দুই তালিকাতেই রয়েছে। কিন্তু তাকে চাল দেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটি গঠনের পর তাকে ডেকে নিয়ে ৩০ কেজির এক বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে চাল বিতরণের কথা স্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবদুল মজিদ। তবে এতদিন পরে কেন চাল দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মার্চে বরাদ্দ চাল আমি জুন মাস পর্যন্ত দিতে পারব। আগে দিইনি, এখন দিচ্ছি।’
৮০ কেজির জায়গায় ৩০ কেজি কেন দিচ্ছেন এবং ভিডব্লিউবির বরাদ্দ থেকে চাল দিচ্ছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে।’
