ময়মনসিংহের নান্দাইলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের লিফলেট বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মোরাদ হাসান ভূঁইয়া (১৮) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরের চার নেতা চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নান্দাইলে নিহত তরুণ মোরাদ হাসান ভূঁইয়া পৌর সদরের কাকচর মহল্লার তফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে।
জানা গেছে, মোরাদ হাসান সহপাঠীদের নিয়ে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এমদাদুল হক ভূঁইয়ার নির্বাচনী পোস্টার লাগানো ও লিফলেট বিতরণ করতে পৌর সদরের নতুন বাজার এলাকায় যান। এ সময় প্রতিপক্ষের কিছু যুবক তাদের কাজে বাধা দেয়। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোরাদ হাসানকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন। সঙ্গে থাকা অন্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। স্বজনরা সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান মোরাদ হাসান।
৫ জুন নান্দাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এ নির্বাচনে তিনজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মোরাদ হাসান হত্যায় কে বা কারা জড়িত সে বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসি আ. মজিদ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। আমরাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এদিকে নিহত মোরাদ হাসানের জানাজা গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলা চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় খেলার মাঠে হয়। জানাজা শেষে মোরাদ হত্যায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে তার লাশের কফিন কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ করে সাধারণ মানুষ। পরে তারা কিছুক্ষণ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
