বেনজীরকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০২:৪১ এএম

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা না থাকলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ যেকোনো জায়গায় যেতেই পারেন বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল সোমবার দুপুরে অ্যান্টিগা ও নিউ ইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তার (বেনজীর) দেশত্যাগে তো কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। আদালতও দেয়নি বা দুদকও দেয়নি। কারও ওপর যখন দেশত্যাগে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তিনি যেকোনো জায়গায় যেতেই পারেন।

বেনজীর আহমেদকে ৬ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তার এক মাস আগেই দেশ থেকে চলে যান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ৬ জুন তিনি (দুদক) হাজির হচ্ছেন কি হচ্ছেন না, সেটি দেখার বিষয়; নাকি তিনি সময় নিচ্ছেন। বেনজীর-আজিজ আওয়ামী লীগ সরকারের সৃষ্টি বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দুদক অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাধীনভাবে কাজ করছে। ফলে এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে বিধায় এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এটা তো অন্য কেউ তুলে আনেনি। সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার।

দুদক এবং সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে বলে আজিজ আহমেদ ও বেনজীরের বিষয়গুলো সামনে আসছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। তার ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদ জব্দেরও আদেশ দিয়েছে আদালত। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, আদালতের আদেশ আসার আগেই বেনজীর ব্যাংক থেকে তার বেশিরভাগ অর্থ তুলে নিয়েছেন। এরপর দেশ ছেড়ে যান।

এদিকে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। ২৮ মে দুদকের পাঠানো নোটিসে বেনজীরকে আগামী ৬ জুন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের ৯ জুন দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে কাজ করা বাংলাদেশিদের ওপর ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনের বিষয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ডয়চে ভেলের যে প্রতিবেদন, সেটার সারমর্ম বোঝা বড় মুশকিল। কারণ কোনো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সেই প্রতিবেদন হয়নি। সেখানে একটি প্রতিবেদন, মনে হচ্ছে যে, ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে আমাদের যে অবদান, সেটিকে খাটো করার জন্য। ডয়চে ভেলেতে এই রকম মাঝেমধ্যে কিছু প্রতিবেদন করা হয়, যেগুলো আমাদের দেশের স্বার্থবিরোধী এবং দেশকে খাটো করা।

বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় যেতে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সময় বাড়াতে চেষ্টা করার কথাও এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন তিনি। এ বিষয়ে আমার সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কথা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে সময়টাকে বর্ধিত করার জন্য। আর এ ক্ষেত্রে কাদের গাফিলতি ছিল, সেটিও তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা চেষ্টা করছি, যে ডেডলাইন মালয়েশিয়া ইমপোজ করেছে, সেটি যেন আরও কিছুদিন বর্ধিত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত