পুরনো কথাই নতুন করে বললেন নেতানিয়াহু

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০২:৪৩ এএম

গাজায় অভিযান বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ছেই। রাফায় হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে যে কথিত অভিযান ইসরায়েল শুরু করে তার বিরোধিতা করছে দেশটির পরম মিত্ররাও। এ ছাড়া জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার আহ্বান তো আছেই। কিন্তু কারও কথাই কানে তুলছে না ইসরায়েল। খোদ যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যে যুক্তবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে তাকেও সে অর্থে গুরুত্ব দিচ্ছে না বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। উল্টো গাজার নতুন নতুন এলাকায় হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গত ২৪ ঘণ্টায় বাহিনীটির হামলায় নিহত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ ফিলিস্তিনি। এর মধ্যেই গতকাল নেতানিয়াহু ফের বলেছেন, হামাসকে নির্মূল করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। গতকাল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কথা আমি নতুন করে বলছি না। সেই অক্টোবর মাস থেকেই বলে আসছি। আর গাজায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি এখন আমার একার হাতে নেই। জোট সরকারের অন্য সঙ্গীরা হামাসকে নির্মূল করার বিষয়ে আমাকে চাপে রেখেছে। জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার পরেই যুদ্ধবিরতি বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। 

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব হাজির করেছে সেটি হামাস মেনে নিলে ইসরায়েলও মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কারবি স্থানীয় সময় গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে হামাস রাজি হলে ইসরায়েলও হ্যাঁ বলবে। আমরা এখন হামাসের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। কারবি বলেন, ইসরায়েল ও হামাস, উভয়পক্ষই যত দ্রুত সম্ভব ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ কার্যকর করতে সম্মত হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

এদিকে আলজাজিরা বলছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় নিহতদের মধ্যে আছে দুটি আশ্রয় শিবিরের অন্তত ১০ নারী-শিশু। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার মধ্য গাজার বুরেইজ ও নুসেইরাত নামে দুটি শরণার্থী শিবিরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় বুরেইজ শিবিরে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের সবাই নারী ও শিশু। আর নুসেইরাতে হামলায় আরও ৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরটি নুসেইরাত শিবির থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় নিহতদের লাশ দেইর আল-বালাহের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল দেওয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ হাজার ৪৩৯ জনে পৌঁছেছে। হামলায় আরও ৮২ হাজার ৬২৭ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে এর বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র দেওয়া তথ্যমতে, হামলার মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার পর রাফার ৩৬টি আশ্রয়কেন্দ্রের সব ক’টি এখন খালি পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে মধ্য গাজার কিছু অংশ এবং খান ইউনিস শহর মিলিয়ে আরও অন্তত ১৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত