রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতারণামূলক বিনিয়োগ বন্ধসহ তিনটি দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোট ‘বিডবলুজিইডি’, উপকূলীয় জীবন যাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট ‘ক্লিন’ এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবর্তন’ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি-রাবিসাস।
অন্যান্য দাবিগুলো হলো পরিবেশ, জীবন-জীবিকা, শ্রম-অধিকার ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার ভিত্তিতে ন্যায্য ও জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে ও মুজিব জলবায়ু সমদ্ধি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নবায়ন যোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
সমাবেশ অনুষ্ঠানে পরিবেশবাদী সংগঠন 'পরিবর্তন' এর পরিচালক রাশেদ রিপন বলেন, 'বৈশ্বিক তাপমাত্রার গড় বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে হবে। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ২০৩০ সাল নাগাদ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার যে পর্যায়ে সীমিত রাখা দরকার, বর্তমানে বিশ্ব তার চেয়ে ১২০ শতাংশ বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পথে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কমাতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না-হলে জলবায়ুতে যে পরিবর্তন আসবে, তা ২০৩০ সাল নাগাদ ১০ কোটির বেশি মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এমনিতেই বিশ্ব পরিবেশ দূষণের অন্যতম শিকার। জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থাৎ তেল, গ্যাস ও কয়লা ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে বিশ্বের উষ্ণতা বাড়ছে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের বিশাল এলাকা আজ সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার হুমকির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ব্যবহার, পরিবেশকে আরো দূষিত করতে পারে।'
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিপন চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে যা একসময় ফুরিয়ে যাবে এবং আমাদের তা আমদানি করতে হবে। যেখানে আমাদের উচিত ছিল নবায়নযোগ্য শক্তিগুলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সেখানে সরকার উল্টোপথে হাঁটছে। এসব প্রকল্প থেকে আমরা তাৎক্ষণিক উপকৃত হলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। তাই পরিবেশ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য দ্রুততম সময়ে মুজিব জলবায়ু সমদ্ধি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করার দাবি এবং সরকারকে এ ধরনের পরিবেশ বিনষ্টকারী উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক ফাহির আমিন বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমরা এমন পরিবেশের দিকে যাচ্ছি যেখানে বৃক্ষনিধন করে কংক্রিটের দেয়ালে লেখা হয় গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান। দেশের প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় রাষ্ট্রযন্ত্রের যে সার্বিক ভূমিকা থাকা উচিত আমরা তা দেখছি না। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। এসব প্রকল্প বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার দিকে এগোতে হবে। সেইসাথে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতারণামূলক বিনিয়োগ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
সমাবেশে বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেনকে বিদায়ী সংবর্ধনা
‘ইন্ডিয়া’ জোট কারা?
বীরভূমে জিতে উচ্ছ্বসিত শতাব্দী রায়