দু’জনেই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার। দু’জনেই অলরাউন্ডার। এক জন বিশ্বকাপ জিতেছেন ১৯৮৩ সালে। কপিল দেবের নেতৃত্বে। অন্য জন জিতেছেন দু’-দু’টি বিশ্বকাপ। ২০০৭ সালে টি২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালের বিশ্বকাপ। দু’বারই অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে অন্য এক 'অধিনায়ক'এর নেতৃত্বে রাজনীতির ময়দানে নেমে সাফল্য পেলেন কীর্তি আজাদ ও ইউসুফ পাঠানের। তাদের সেই 'অধিনায়ক' পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনীতির ময়দানে ইউসুফ নবীন। কীর্তি প্রবীণ। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যোগ পুরোনো। তবে তৃণমূলে নতুন। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইউসুফকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রস। বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে কীর্তি লড়তে নেমেছিলেন বিজেপির দিলীপ ঘোষের বিপক্ষে।
অবাঙালি ইউসুফ পাঠান বরোদার মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে তিনি কতটা সুবিধা করতে পারবেন, মতভেদ ছিল সেটি নিয়েও। বিশেষ করে অভিজ্ঞ রাজনীতিক অধীর চৌধুরীর সঙ্গে তিনি টক্কর দিতে পারবেন কি না, সেটি নিয়ে ছিল অনেক শঙ্কা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াইটা দারুণভাবেই জিতেছেন ইউসুফ। অনেকটা তাঁর মারকুটে ব্যাটিং স্টাইলের মতোই। অধীরের থেকে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন তিনি।
অন্য দিকে বিজেপি প্রার্থী দিলীপকে ১,৩৭,৫৬৪ ভোটে হারিয়েছেন কীর্তি। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৭ টি। দিলীপ ঘোষ পেয়েছেন ৫ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৬ টি।
কীর্তি আজাদও ইউসুফ পাঠানের মতো তৃণমূলের আলোচিত প্রার্থী ছিলেন। ১৯৮৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য কীর্তির অবশ্য একটা পুরোনো রাজনৈতিক পটভূমি আছে। বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভগবত ঝাঁ আজাদের ছেলে কীর্তি একসময় বিজেপি করতেন। টানা দুবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন ওই দলের প্রার্থী হয়ে। তখন অবশ্য তিনি জিতেছিলেন নিজের রাজ্য বিহার থেকে। দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দুর্নীতি নিয়ে সাবেক মন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে বিবাদের কারণেই তিনি বিজেপিছাড়া হয়েছিলেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে মমতা ব্যানার্জির দলে সামিল হন তিনি।
দুই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারকে প্রার্থী করার ভাবনা মমতা ব্যানর্জির একদম সঠিক ছিল, তা প্রমাণিত হল ভোটের ফলপ্রকাশ হতেই।
