মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিজয়ী ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। অন্য দিকে নড়াইল সদর উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের সমর্থক জাহাঙ্গীর আলম গ্রুপের সঙ্গে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কবিরুজ্জামানের সমর্থক বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান শিকদার গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত সোমবার দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাদানুবাদ পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। আহত পুলিশ কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম ও এসআই ওহিদুর রহমানকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত অন্যদের মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, দুপুরের দিকে রাসেল মোল্লা (৩০), ফয়জুর রহমান (৪০), বাবলু শেখ (৩৫) নামে তিন ব্যক্তি আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তারা মাথায়, পেটে ও পায়ে বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। তারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মহম্মদপুর থানার ওসি বোরহান-উল-ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে দুজন পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষার্থে রাবার বুলেট ছোড়ে।
এদিকে নড়াইল সদর উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিংগাশোলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখ (৩৭) ও তার সহযোগী গোবরা গ্রামের গোলাম রসুল মোল্লার ছেলে আবদুর রাজ্জাককে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফায়েল মাহমুদ তুফানের সমর্থক উজ্জ্বল শেখ গত রবিবার রাতে দলবল নিয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার সমর্থক নিউটন গাজীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় নিউটনের একটি প্রাইভেট কার পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ঘরের আসবাব ভাঙচুরসহ স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। হামলায় নিউটনের বাবা, স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জন আহত হয়।
সদর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
