যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ দেওয়ায় আবার ওই শিক্ষার্থী শাহরীনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবার যদি অভিযোগ দেয় তাহলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন তারা। গত মঙ্গলবার রাত ২টায় যবিপ্রবির শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার (৩০৬ নম্বর) কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ও সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট ড. মো তানভীর ইসলামকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে বিচার চেয়েছেন।
ভুক্তভোগী বলেন, সোমবার কথা-কাটাকাটির জেরে আমাকে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ায় ঘটনায় বিচার চাওয়ায় ঘুম থেকে তুলে রাত ২টাই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার নির্দেশে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যায় আমার বন্ধু আমিনুল ইসলাম ও সিয়াম। ৩০৬ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেন। এ সময় এলোপাতাড়ি কিলঘুসি মারলে রুমের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। তখন তারা আমাকে পা দিয়ে পাড়াতে থাকেন। এ সময় তারা আমাকে বলতে থাকে কেন প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিস? এ সময় তারা আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেন। একপর্যায়ে তারা আমাকে মোটা রড দিয়ে আমার সারা শরীরে পেটাতে শুরু করেন। ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে দফায় দফায় এমন নির্যাতন। ওই সময় আমার মনে হচ্ছিল আমিও মনে হয় মরে যাব। এ সময় মারধরে অংশগ্রহণ করে আশিকুজ্জামান লিমন (পিইএসএস), ইসাদ (পিইএসএস), রায়হান রহমান রাব্বি (পদার্থবিজ্ঞান), বেলাল হোসেন (এফবি), শেখ বিপুল (পিইএসএস), রাইসুল হক রানাসহ (ফার্মেসি) আরও কয়েকজন।
প্রাণে বাঁচতে আমি ছাত্রলীগ সভাপতি সোহেল রানার পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি জানাই। এ সময় তিনি বলেন, ‘কালকের মধ্যে অভিযোগ তুলে নিবি, না হলে তোকে গুলি করে মারব।’ এ সময় ভাই আমার বুকে লাথি মেরে আমাকে মেঝেতে ফেল দেন। বলেন, ‘ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি চলে যাবি। ক্যাম্পাসে যেন তোকে আর না দেখি।’
জানা যায়, এরপর যেন কাউকে না জানাতে পারে সেজন্য তার বন্ধু আমিনুল ইসলাম শাহরীনের ফোন নিয়ে রেখে দেন। একপর্যায়ে ঘটনা জানাজানির ভয়ে সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শহরে নিয়ে চলে যান আমিনুল ও রাজীব। পরে জানাজানি হলে চাপে পড়ে দুপুরের দিকে শাহরীনকে তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দেন তারা। শাহরীন বাড়ি পৌঁছালে তার মাকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল দিয়ে বাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান শাহরীন।
এ ঘটনায় যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা কিছুই জানেন না দাবি করে বলেন, ‘আমি যবিপ্রবির ছাত্রলীগের একটি কুচক্রি মহলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হচ্ছি। আমি মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। আমার রুমে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ ঘটনায় যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সাল বলেন, সভাপতির রুমে এমন কিছু ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। গত দিনের মাঠের মারামারির ঘটনাটি তার নিজ বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছে। তাকে এতই ভীতসন্ত্রস্ত মনে হচ্ছিল যে, কথা বলতে পারছিল না। সে জানিয়েছে তাকে আবরার ফাহাদের মতো মারা হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত সোমবার ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানবিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরীন রহমানের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহীনুরের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেন শাহরীন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন যদি কিছু হয়ে থাকে সেটা অনাকাক্সিক্ষত। ছাত্রলীগের কেউ যদি এমন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা নেব।
