যশোরে পুলিশ হেফাজতে আফরোজা বেগম নামে (৪০) এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
কমিশন বলেছে, পুলিশ বাহিনীর কতিপয় সদস্যের এমন অপেশাদারি ও দায়িত্বহীন আচরণে দেশে-বিদেশে পুরো বাহিনীর কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
গতকাল বুধবার কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ওই ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়, যশোরের অভয়নগর উপজেলায় নওয়াপাড়া গ্রামের আবদুল জলিল মোল্যার স্ত্রী আফরোজা বেগমকে গত ১ জুন রাত দেড়টার দিকে পুলিশ আটক করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের পর থানা হেফাজতে রাখার পরদিন অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। আফরোজার পরিবারের অভিযোগ, মাদক রাখার কথা বলে নির্যাতন করায় অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত সুয়োমোটোর বিষয়বস্তু উল্লেখ করে বলা হয়, রাষ্ট্রের পেশাদার শৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় নিয়ে একজন নারীকে চুল ফ্যানের সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে নির্যাতন ও পরবর্তী সময়ে ওই নারীর মৃত্যু সংক্রান্ত অভিযোগটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন বলে কমিশন মনে করে। এ অবস্থায়, যশোরের অভয়নগর উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে আফরোজা বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে বলা হয়েছে।
