বাজেটে কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০৩:২৩ পিএম

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উত্থাপিত করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। অর্থনীতির সংকটময় এই মূহুর্তে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট উত্থাপন করেছেন তিনি।

বাজেট উপস্থাপন হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন অর্থমন্ত্রী। যে সময়ে অর্থনীতি নানান সংকট মোকাবিলা করছে; বিশেষ করে ডলার-সংকট, আমদানিতে কড়াকড়ি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রেমিট্যান্সে খরা ইত্যাদি সার্বিক অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিচ্ছে। সরকারকে সামনে বিনিয়োগ বাড়ানো, জিনিসপত্রের দাম কমানোর মতো কঠিন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

 নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আজ যখন জাতীয় সংসদে তাঁর প্রথম বাজেট উপস্থাপন করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশা থাকবে, তিনি অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশকে বের করে আনার জন্য দরকারি সব পদক্ষেপ নেবেন।

সবার প্রথমে যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন অর্থমন্ত্রী তা হল মূল্যস্ফীতি। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামবিহীন মূল্যতে নাকাল দেশবাসী। খাদ্যের মূল্যস্ফীতি এখন ১০ শতাংশের বেশি। শুধু খাদ্য কিনতে গিয়েই বেশির ভাগ মানুষ তাঁদের আয়ের বড় অংশ খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বছরজুড়েই মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট হয়েছে সীমিত আয়ের মানুষ।

যদিও এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমালোর লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে তবে দেখা বিষয় কতটুকু কার্যকর হয় এসব পদক্ষেপ। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপগুলো এখন পর্যন্ত কেবল ফাঁকা আওয়াজই করেছে।

অর্থমন্ত্রী মাহমুদ আলীর জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ বৃদ্ধি। প্রতিনিয়তই কমছে রিজার্ভ। আমদানি এখনো নিয়ন্ত্রিত খাত। মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ের আমদানি দায় মেটানোর মতো রিজার্ভ রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে। দায় পরিশোধে বাংলাদেশের সামর্থ্যের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা কেবলই কমছে। বৈশ্বিক বড় রেটিং এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের রেটিং অবনমন করেছে।

প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকারের হাতে অর্থপ্রবাহ কমছে। ঘাটতি মেটাতে নির্ভর করতে হচ্ছে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া লক্ষ্য পূরণ করতে শুল্ক বাড়ছে অনেক পণ্যে। দামি ডলার, ক্রমবর্ধমান সুদহার ও শুল্ক বৃদ্ধি—এই তিন বিষয় পণ্যমূল্যের ওপর প্রভাব রাখবে। এসব ঘাটতি পূরণে এবারও সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে বাড়তি খরচের জোগানও সরকারের বড় মাথাব্যথা।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট প্রস্তাব। চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ধরা হয়েছিল সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ টাকার অঙ্কে গত অর্থবছরের তুলনায় এবারের বাজেটে আকার বাড়ছে মাত্র ৩৫ হাজার ২১৫ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত