স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ছে, থাকছে প্রশ্নও 

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০৬:৪০ পিএম

নতুন অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৪১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এর আগে গত অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা। সুতরাং প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে নতুন অর্থবছরে স্বাস্থ্যের বরাদ্দ বাড়ছে ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।

তবে বরাদ্দ বাড়লেও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের খরচ আরও বাড়বে। নতুন বাজেটে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানির শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন উপকরণ আমদানির অজুহাত দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীদের পকেট কাটবে। একইভাবে বাজেটে অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত স্পাইনাল নিডলের নতুন এইচএস কোড তৈরি করে এতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এখানেও রোগীর ব্যয় বাড়বে।

জাতীয় সংসদে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

তবে নতুন বাজেটে ডেঙ্গু ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৪ কোটি রোগী রয়েছে। এই রোগীদের চিকিৎসায় অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ হচ্ছে ডায়ালাইসিস ফিল্টার এবং ডায়ালাইসিস সার্কিট। এ দুটি পণ্য আমদানিতে ১০ শতাংশ থেকে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে ডেঙ্গু কিট আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। যা কার্যকর হলে ডেঙ্গু রোগীদের ব্যয় কিছুটা কমবে।

নতুন বাজেটে ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা রাখা হয়েছে। ওষুধের কাঁচামাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের (এপিআই) কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধায় নতুন কাঁচামাল সংযোজন এবং চিকিৎসা খাতে বায়ো-হাইজিনিক ইকুইপমেন্ট উৎপাদনে রেয়াতি নতুন পণ্য সংযোজনের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টসের সর্বশেষ প্রকাশনা অনুসারে, ২০২০ সালে চিকিৎসা ব্যায়ের ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যক্তিকেই বহন করতে হয়। এই ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। অথচ ২০১২ সালে বাংলাদেশের মানুষকে চিকিৎসার ৬২ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হতো।

স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বেশীরভাগ টাকাই ব্যয় হয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয়ের পেছনে। এ ছাড়া বিভিন্ন নতুন প্রকল্পে লুটপাট, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নির্ধারণের কারণে বাজেট বরাদ্দের সুফল পায় না সাধারণ মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন প্রতি বছর বাজেটে বরাদ্দ বাড়লেও তা পর্যাপ্ত নয়, কেননা বাজেটের আকার যখন বাড়ে তখন বরাদ্ধের পরিমাণ ও কিছুটা বাড়ে। কিন্তু এই বৃদ্ধির পরিমাণ অন্যান্য খাতের তুলনায় আশাব্যাঞ্জক নয়। তাছাড়া গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দকৃত টাকা খরচ করতে না পারায় মন্ত্রণালয় থেকে ফেরত গেছে। ফলে নতুন বছরে বরাদ্দ বাড়লেও সেই টাকা খরচ করতে পারবে কী না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন দুজন চিকিৎসক। আমলাতন্ত্রের গ্যাঁড়াকলে না পরে তারা যদি এবার সঠিক পরিউকল্পনা প্রণয়ন করে বরাদ্ধের টাকা খরচ করতে পারেন তাহলে মানুষের চিকিৎসা ব্যায় কমবে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে খরচ করতে না পারায় স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্ধ থেকে ফেরত গেছে ৩৯ শতাংশ টাকা, ২০২১-২২ এ ফিরে যায় ২৯ শতাংশ টাকা, ২০২০-২১ এ ফেরত যায় ৪২ শতাংশ, ২০১৯-২০ এ ফেরত যায় ২৬.৪ শতাংশ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত