মন্দার পুঁজিবাজারে নেই প্রণোদনা

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪, ০৫:৩৫ এএম

মূলধনী মুনাফায় করারোপের প্রস্তাবে প্রায় এক মাস ধরেই মন্দা চলছে পুঁজিবাজারে। টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারালেও এবার বাজেটে তাদের জন্য নেই সুখবর, বাজারের জন্য নেই কোনো প্রণোদনা। উল্টো মূলধনী মুনাফা বা ক্যাপিটাল গেইনের ওপর কর বসানো হয়েছে। বাজেটের আগে থেকেই পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে নতুন করে করারোপ না করার দাবি জানালেও শেষ পর্যন্ত তা আমলে নেওয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নতুন করে মূলধনী মুনাফার ওপর করারোপের এ প্রস্তাব করেছেন।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট প্রস্তাবে বলেছেন, ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনী মুনাফায় কোনো কর বসবে না। তবে ৫০ লাখ টাকার বেশি মুনাফা করলে তার ওপর কর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো বিনিয়োগকারী সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ার লেনদেন করে এক বছরে ৬০ লাখ টাকা মুনাফা করেন, সে ক্ষেত্রে মুনাফার ৫০ লাখ টাকার অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা মুনাফায় কর দিতে হবে। তাতে ওই বিনিয়োগকারীর নির্দিষ্ট একটি অর্থবছরে তার মোট আয়ের ওপর যে হারে কর প্রযোজ্য হবে, সেই হারে কর দিতে হবে। তবে কোনো বিনিয়োগকারী যদি কোনো শেয়ার একটানা পাঁচ বছর ধরে রেখে ৫০ লাখ টাকার বেশি মুনাফা করেন, সে ক্ষেত্রে ওই মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে করারোপ হবে। বাজেটে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর বাইরে কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে যে মুনাফায় করুক, সেই মুনাফার ওপর করারোপ হবে।

বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। তাদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্লেসমেন্ট শেয়ারধারী, স্টক ব্রোকার, ডিলার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সবাই মূলধনী মুনাফার ওপর সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হারে কর দেন। মূলধনী মুনাফার ওপর কর দেন না শুধু ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারাও এবার করের আওতায় এলো।

এ ছাড়া নতুন বাজেটে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত করতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহারের ব্যবধান বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমিয়ে সাড়ে ১৭ শতাংশ করার দাবি করেছিল ডিএসই কর্র্তৃপক্ষ। আর অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে সাড়ে ৩৭ থেকে ৪০ শতাংশ করার দাবি করা হয়। কিন্তু অর্থমন্ত্রী এই দাবিও আমলে নেননি। বরং তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করপোরেট করহার শর্তসাপেক্ষে আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত