শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কালিয়াকৈরে যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতা হত্যা একই কায়দায়

ছাত্রলীগ নেতা খুনে গ্রেপ্তার নেই

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০২:৩১ এএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিনকে হত্যার ঘটনায় গতকাল শুক্রবারও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ৯ বছর আগে একই স্থানে একই কায়দায় যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকা-ের বিচার শেষ না হতেই আবার ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কবে বিচার পাবে তাদের পরিবার?

গত বৃহস্পতিবার কালিয়াকৈরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের নেতা আল-আমিনকে (১৯) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে সংগঠনের একপক্ষের নেতাকর্মীরা। তিনি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র ও দ্বাদশ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। আল-আমিন উপজেলার বরিয়াবহ এলাকার মোতালেব হোসেনের ছেলে।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিনের বাবা মোতালেব হোসেন পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক আর মা আছিয়া বেগম গৃহিণী। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে আল-আমিন সবার বড়। লেখাপড়া করে একটা ভালো চাকরি করবে ও তাদের দেখাশোনা করবে ছেলে, এমনটাই চাওয়া ছিল নিম্ন আয়ের এই পরিবারটির।

ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বাবা মোতালেব হোসেন বাদী হয়ে রাতে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় কালিয়াকৈর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ওই কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমন খান ও ওই কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আল-আমিনের মামা হারুন মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের পর বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ডাইনকিনি এলাকায় কলেজের পাশে যেখানে আল-আমিনকে হত্যা করা হয়েছে সেখানেই ২০১৫ সালের ২১ আগস্ট উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তখন লাশ নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও কালিয়াকৈর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে প্রতিবাদ সভা হয়েছে। ঘটনার পরদিন তার বড় ভাই আবদুল মোতালেব মিয়া বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু রাজনৈতিক রেষারেষি ও তদন্তের হেরফেরে ওই মামলাটি তিনবার নারাজি দেওয়া হয়েছিল। এর ফাঁকফোকর দিয়ে আড়ালে চলে যায় অনেক রাঘববোয়াল নেতা। সর্বশেষ দীর্ঘদিন পর ওই মামলার চার্জশিট হলেও ৯ বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় তার পরিবার।

বড় ভাই আবদুল মোতালেব মিয়া বলেন, ‘আমার ভাইকে প্রকাশ্যে যেভাবে হত্যা করেছে, ঠিক একই কায়দায় ওই ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে ভাই হত্যার মামলা থেকে অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার ভাই হত্যার বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত