শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঢাকা মেডিকেল

অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে মানা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০২:৩০ এএম

এখন থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।

এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গত ৪ জুন একটি নোটিস দিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান। নোটিসে বলা হয়েছে ‘সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে এ হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ এমন নোটিসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময় অন্যান্য পরিচালকরা মৌখিকভাবে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু নোটিস দিয়ে নির্দেশনার ঘটনা এটাই প্রথম। এতে সাংবাদিকদের সাধারণ তথ্য সংগ্রহ করতেও বেশ বেগ পেতে হবে। কারণ ভয়ে কোনোই চিকিৎসক বা কর্মকর্তা-কর্মচারী কথা বলতে চাইবেন না। আবার পরিচালকের থেকে অনুমতি আনার বিষয়টিও বেশ জটিল।

এমনকি এখন থেকে এই হাসপাতালের কোনো তথ্য সংগ্রহ বা কোনো ছবি তুলতে বা ধারণ করতে হলে সাংবাদিকদের পরিচালকের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি নেওয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ওয়ার্ডের বাইরে অন্য কোনো ওয়ার্ড বা ব্যক্তির সঙ্গেও সাংবাদিকরা কথা বলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেকোনো প্রতিষ্ঠানের একজন মনোনীত ব্যক্তি থাকেন। সেটা পরিচালক অথবা পরিচালক মনোনীত কেউ হতে পারেন। এখন আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই যদি যে যার মতো করে বক্তব্য দেয়, সেটা গ্রহণযোগ্য না। সে জন্য বলেছি, হয় আমি বক্তব্য দেব অথবা আমার মনোনীত কোনো একজন দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বক্তব্য দেব না, এমন কথা বলিনি। আমার এখানে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। দেখা যায় অনেক নিচু পর্যায়েরও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।’

পরিচালক বলেন, ‘এখন থেকে এই হাসপাতালে কোন সাংবাদিক কোনো তথ্যের জন্য গেলে প্রথমে আমার কাছে আসতে হবে। আপনাদের তথ্য আমি দিতে পারি, অথবা আমার মনোনীত কোনো ব্যক্তি দিতে পারে।’

ওয়ার্ডে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে গত পাঁচ মাসে আমার অভিজ্ঞতা হলো, আমি মৌখিকভাবে অনুমতি দেই। কিন্তু দেখা গেল উনি ওই ওয়ার্ডে যে কাজের জন্য গিয়েছিলেন, সেটার পাশাপাশি অন্য ওয়ার্ডে গিয়েও ছবি বা ভিডিও করছেন। যখন প্রচার করেন, তখন দেখা যায় যে তথ্য বা ভিডিও নিয়েছেন, তার সঙ্গে কোনো মিল নেই। সে জন্য আমরা আমরা একটা নোটিস দিয়েছি যে, কোনো সাংবাদিক যদি আসেন, উনি কোন ওয়ার্ডে যেতে চান বা কি করতে চান, আমাকে বলবেন। আমি আমার লোক দিয়ে ওই ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত